যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত তিনজনের পরিচয় মিলেছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৩:৫৯ পিএম, ২১ মে ২০১৮
ফাইল ছবি

যশোরে রোববার গভীর রাতে মাদক ব্যবসায়ীদের কথিত বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তিনজনের পরিচয় মিলেছে।

এরা হলেন- যশোরের শার্শার টেংরা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৫), মহিষাডাঙ্গা গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে মুত্তাজুর রহমান মুন্না (৩৪) এবং চৌগাছা উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৩৮)।

যশোর শহরতলীর শেখহাটি ও খোলাডাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীদের কথিত এ বন্দুকযুদ্ধের পর পুলিশ ওই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে গত তিনদিনে যশোরে র্যাব ও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সাতজন নিহত হলেন।

মাদক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর হুঁশিয়ারির পর গত শনিবার ভোরে বন্দুকযুদ্ধের প্রথম ঘটনাটি ঘটে। অভয়নগরের এই বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হন। এরপর রোববার ভোরে যশোরের শহরতলী সুজলপুর এলাকায় কথিত আরেকটি বন্দুকযুদ্ধে আরও একজন নিহত হন। সর্বশেষ রোববার ভোরে যশোরের শহরতলীতে পৃথক দুটি বন্দুকযুদ্ধে আরও তিনজন নিহত হলেন। তিনদিনে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত সাতজনই মাদক ব্যবসায়ী বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা জানান, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে যশোর শহরতলীর শেখহাটি ও খোলাডাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করছে- এমন সংবাদ পায় পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ ওই স্থান দুটিতে যায়। এ সময় শেখহাটির নওয়াব আলীর খেজুর বাগান নামক স্থান থেকে দুইটি মরদেহ ও ৪শ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে খোলাডাঙ্গা মাঠের মধ্যে থেকে এক মরদেহ ও একশ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুইটি পিস্তল ও গুলির খোসা পাওয়া যায়। পরে পরিবারের লোকজন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে এসে তাদের পরিচয় শনাক্ত করেন।

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কল্লোল কুমার সাহা জানান, ভোর ৪টা ৫মিনিটের দিকে যশোর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক তরুণ কুমার গুলিবিদ্ধ একটি ও যশোর উপশহর ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রহিম দুটি মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাদের মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় চেহারা বিভৎস হয়ে গেছে বলে জানান এই চিকিৎসক।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসায়ী এবং বন্দুকযুদ্ধের দাবি করা হলেও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের দাবি ভিন্ন।

নিহত সিরাজুল ইসলাম দুখির ছেলে রিপন হোসেন দাবি করেন, তার বাবা একজন কৃষক। পরশু দিবাগত ভোররাতে দুটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ৭/৮ ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আজ সকালে লোকমুখে খবর শুনে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে গিয়ে দেখতে পান তার বাবা খালি গায়ে একটি চেক লুঙ্গি পরা মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

নিহত মুত্তাজুল রহমানের বড়ভাই সোহরাব হোসেন দাবি করেন, গতপরশু দিবাগত ভোররাতে সেহরির সময় দুটি সাদা মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার ভাইকে তুলে নিয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান মেলেনি। সোমবার সকালে খবর পেয়ে হাসপাতালে মর্গে এসে দেখেন তার ভাই মুত্তাজুলের মরদেহ পড়ে আছে। তার মাথার পেছনে গুলি করা হয়েছে।

মিলন রহমান/আরএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :