জমি দখলে নিতে বিধবাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১০:৫৭ এএম, ২৭ মে ২০১৮

যশোরের মণিরামপুরে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের জন্য এক বিধবাকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছয়দিন আগে উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ শনিবার মূল আসামি শহিদুলকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়।

নির্যাতনের শিকার বিধবা রোকেয়া বেগম (৫৮) ওই গ্রামের বদিউজ্জামানের মেয়ে। আর আটক শহিদুল ইসলাম একই গ্রামের আনসার আলীর ছেলে।

হামলার শিকার রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, গত সোমবার হঠাৎ করে একই এলাকার শহিদুল ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তাকে বাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পরে সন্ত্রাসীরা তাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। সোমবারের এই ঘটনার ভিডিও স্থানীয় একজন মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে তা ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শুক্রবার বিধবা রোকেয়া মণিরামপুর থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা করেন।

রোকেয়া বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি ঢাকুরিয়ায় বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। তিনি ও তার দুই ভাই দিনমজুরির কাজ করে জীবন চালান। অনেক বছর আগে ওই এলাকার খালেক নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একখণ্ড জমি কিনে একটি ছোট মাটির ঘর করে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, রোকেয়ার বসতবাড়ির উঠান সংলগ্ন একখণ্ড জমি রয়েছে খালেকের অপর ভাই ফয়জুল্লার মালিকানায়। তার কাছ থেকে বছর দুয়েক আগে শহিদুল ওই জমিটি কেনেন। ফয়জুল্লা’র জমি দখল নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোকেয়ার বসতঘরও দখলে নেয়ার চেষ্টা করেন শহিদুল। এ সময় ওই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

মণিরামপুর থানার এসআই জুয়েল রানা বলেন, বিধবাকে মারপিটের ভিডিও দেখার পর শুক্রবার এ ঘটনায় মামলা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনার মূলহোতা শহিদুলকে আটক করা হয়েছে।

মিলন রহমান/এফএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :