আদালতের আদেশ অমান্য করে বিলের পাড় নির্মাণ!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৪:৪৯ পিএম, ৩০ মে ২০১৮

আদালতের আদেশ অমান্য করে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের আজরার বিলের পাড় নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানালেও বন্ধ না রেখে বিলের পাড় নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন ঠিকাদার।

মামলার বিবাদী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্তকর্তা বিলের পাড় নির্মাণ কাজ বন্ধের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে আবারও আদালতের আদেশ অমান্যের মামলা করেন মৎস্যজীবি শ্যামল চন্দ্র দাস।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের আজরার বিলের (৩ দশমিক ২৩ হেক্টর) পাড় নির্মাণের কাজ শুরু করেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম তুহিন। কাজ শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। বিলের জমি ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন ৩ একর ১৯ শতক জমি দখল করে পাড় নির্মাণ করা হচ্ছে দাবি করে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানিয়ে পলাশবাড়ী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন একই ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামের মৎস্যজীবি শ্যামল চন্দ্র দাস।

এতে মনোহরপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) বিবাদী করা হয়। আদালত শুনানি শেষে গত ২৫ মার্চ বিলের পাড় নির্মাণের কাজে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।

Gaibandha-Photo

তারপরও আদালতের আদেশ অমান্য করে আজরার বিলের পাড় নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম তুহিন। আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করার অভিযোগে শ্যামল চন্দ্র দাস একই আদালতে আবারও ভায়োলেশন (আদালতের আদেশ অমান্য) মামলা। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম তুহিন ৩০ এপ্রিল এই বিলের পাড় নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন।

এ বিষয়ে শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, মামলা করার বিষয়টি আমি মৎস্য বিভাগ ও ঠিকাদারকেও জানিয়েছি। এরপরও তারা আদালতের আদেশ অমান্য করে বিলের পাড় নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখেন।

আদালতের আদেশ অমান্য করে কাজ করছেন কেন এমন প্রশ্ন করা হলে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম তুহিন বলেন, আমি মামলার বিষয়ে কিছু জানি না। কার্যাদেশ পাওয়ার পর ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করি। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির কারণে বিলের পাড় ভেঙে যাওয়ায় তা মেরামত করছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুদ দাইয়্যান বলেন, যেহেতু মামলায় মৎস্য বিভাগকে বিবাদী করা হয়নি। তাই বিলের পাড় নির্মাণের কাজ যথাসময়ে শেষ করা হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে পাড় ধসে যাওয়ায় তা ঠিকাদারের কাছ থেকে মেরামত করে নেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা. রোখছানা বেগম আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি এ ব্যাপারে মিডিয়ার সামনে কিছু বলতে পারবো না। আপনারা জেলা প্রশাসকের কাছে যান।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, আদালতের আদেশের বিষয়টি কর্মকর্তারা কেন আমলে নেননি তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রওশন আলম পাপুল/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।