হেরেই গেল তানজিম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ভোলা
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ এএম, ০৮ জুলাই ২০১৮

প্রায় দু’মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করলো অ্যাসিডদগ্ধ তানজিম আক্তার মালা (১৬)। কিন্তু অবশেষে জয় হয়েছে মৃত্যুর। হেরে গেছে তানজিম। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর সিটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালটির বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক মো. শহিদুল বারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তানজিমদের বাড়ি ভোলা সদরের উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে। অ্যাসিডে তানজিমের শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এক চোখ, এক কান ও নাকের খানিকটা গলে যায়। আরেক চোখের অবস্থাও ভালো ছিল না। মুখ থেকে বুকের নিচ পর্যন্ত গভীরভাবে দগ্ধ হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন তানজিমের শ্বাসনালিসহ শরীরের ২৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

এর আগে গত ১৪ মে দিবাগত রাতে নিজের ঘরে ঘুমন্ত তানজিম (১৬) ও তার ছোট বোন মারজিয়ার (৭) উপর অ্যাসিড ছুড়ে মারে মহব্বত হাওলাদার নামের এক তরুণ। পরদিন ভোলা সদর মডেল থানায় তানজিমের মা মামলা করেন। বর্তমানে ওই তরুণ কারাগারে আছে।

জানা গেছে, এ বছর এসএসসি পাস করেছে তানজিম আক্তার মালা। তানজিমের বাবা মো. হেলাল রাঢ়ী চট্টগ্রামে রংমিস্ত্রির কাজ করেন। দুই ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে তার স্ত্রী ভোলায় থাকেন। তানজিম ভোলা থেকে এসএসসি পাস করে। ঘটনার দুই মাস আগে মুঠোফোনে রং নম্বরের মাধ্যমে মহব্বত হাওলাদার (১৯) নামে ওই তরুণের সঙ্গে তানজিমের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গ্রেফতারের পর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে অ্যাসিড মারার কথা স্বীকার করে মহব্বত জানায়, ভোলা সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ালেখা করছে সে। তানজিমের সঙ্গে তার মোবাইলে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের প্রেম হয়। জীবনের প্রথম প্রেম হিসেবে তানজিমকে সে ভীষণ ভালোবাসে। কিন্তু কয়েকদিন পর সে জানতে পারে তানজিমের সঙ্গে আরও দু’জনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে।

ফলে সে তানজিমের ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়। সিদ্ধান্ত নেয় অ্যাসিড নিক্ষেপের পর মালাকে কেউ বিয়ে করতে রাজি হবে না। ব্যাটারি চার্জের দোকান থেকে অ্যাসিড সংগ্রহ করে সে। এরপর গভীর রাতে বাইসাকেল চালিয়ে তানজিমের বাড়ি যায়। জানালা খোলা পেয়ে ঘুমন্ত তানজিমের ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায় মহব্বত। সেই অ্যাসিডে ঝলসে যায় তানজিম ও তার ছোট বোন মার্জিয়া।

এদিকে ঘটনার পর পরই আহতদের স্বজনরা অ্যাসিড নিক্ষেপের জন্য একই বাড়ির ফারুকের ছেলে রাজিবকে সন্দেহ করে মামলা দেয়। ওই সময় তানজিমও জানায়, রাজিব তাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ব্যর্থ রাজিব এই কাজ করেছে। এ ঘটনায় রাজিবের বাবা ফারুক রাঢ়িকে গ্রেফতারও করে পুলিশ।

তবে নির্দোষ রাজিবের পরিবার প্রকৃত ঘটনা বের করতে পুলিশকে নানা তথ্য দেয়। পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুসন্ধান চালিয়ে এ ঘটনায় মহব্বতের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ।

পরে সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেফতারের পর ২৬ মে মহব্বত হাওলাদার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে অ্যাসিড মারার কথা স্বীকার করেন। এখন তিনি কারাগারে আছেন।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।