তিন স্কুলছাত্রীর বিয়ে ঠেকাতে ইউএনও-ওসি কেউ এলেন না

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ০৮ জুলাই ২০১৮
প্রতীকী ছবি

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিন স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে জানানোর পরও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নে দুইটি ও টেপাখড়িবাড়ীতে একটি বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে অভিযাগ উঠেছে ঝুনাগাছ চাপানি নিকাহ রেজিস্টার আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে। তিনি ইউনিয়নের বাল্যবিবাহের অনুষ্ঠানগুলোতে নিজে না গিয়ে ভাতিজা ময়নুল ইসলাম মানিককে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের মেয়ে ও সোনাখুলি জহরতুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী জেসমিন আক্তারের বিয়ে হয় দক্ষিণ গয়াবাড়ী গ্রামের নুরুজ্জামানের সঙ্গে।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্কুলছাত্রী জেসমিনের বিয়ে একটি প্রভাবশালী মহলের উপস্থিতিতে হয়েছে। এ সময় এলাকাবাসী ইউএনও, পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যানকে মোবাইল ফোনে অবগত করেও বাল্যবিয়েটি বন্ধ করতে পারেনি। ইউএনও নাজমুন নাহার বলেন, আমি নিজে পুলিশকে মোবাইল ফোনে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিতে বলেছিলাম।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ী তেলির বাজার গ্রামের অফিসারের মেয়ে ও দক্ষিণ খড়িবাড়ী দাখিল মাদরাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সারমিনের বিয়ে হয়।

অপরদিকে, শনিবার রাতে সোনাখুলি গ্রামের সুভাশ চন্দ্র রায়ের মেয়ে ও চাপানি সোনাখুলি সৈকত নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালযের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী শুধা রানীর বিয়ে হয় একই এলাকার ননী চন্দ্র রায়ের ছেলে জয়কান্ত রায়ের (১৫) সঙ্গে। পর পর দুটো বাল্যবিয়ের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর পুলিশ প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যান বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে বলেছিলাম। পরবর্তীতে কোনো সংবাদ না পাওয়ায় বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে মর্মে নিশ্চিত ছিলাম।

ডিমলা থানা পুলিশের ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, বাল্যবিয়ের ঘটনার বিষয়টি আমার জানা নেই। বাল্যবিবাহের ঘটনায় পুলিশ যাওয়ার নিয়ম নেই। ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত হলে পুলিশ সেখানে যেতে পারতো।

ঝুনাগাছ ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, বাল্যবিবাহের ঘটনায় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছিল।

ঝুনাগাছ চাপানি নিকাহ রেজিস্টার আইয়ুব আলী বলেন, আমি তো রাতের বেলা কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে যাই না। আমার প্রতিনিধি হিসেবে ভাতিজা ময়নুল ইসলাম মানিক গিয়ে থাকে। নিজে না গিয়ে ভাতিজা দিয়ে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার নিয়ম আছে কি-না জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি কলটি কেটে ফোন বন্ধ করে দেন।

জাহিদ/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।