কক্সবাজারে বিএনপির ভোটারদের হুমকির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৪:০৬ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৮

আসন্ন কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী, ভোটার ও সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা।

তারা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড ও ২নং ওয়ার্ডের ধানের শীষের ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছে। এসব ওয়ার্ডে নৌকায় ভোট না দিলে ভোটারদের কেন্দ্রে না যেতে বলা হচ্ছে। বিএনপি প্রার্থীর সম্ভাব্য এজেন্টদের এজেন্ট না থাকতে এবং ভোটের প্রচারণা না করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। স্বয়ং আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমান নিজেও হুমকি দিয়েছেন।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলামের নির্বাচনী অঙ্গীকার নিয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ১নং ওয়ার্ড ও ২নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের লোকজন বিএনপির ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিচ্ছে। দলীয় নির্বাচন হলেও বিএনপির ভোটারদের নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ধানের শীষের প্রচারণা চালাতে বাধা দেয়া হচ্ছে, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য এজেন্টের এজেন্ট না থাকতে বলা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিয়মিত এই ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি ১নং ওয়ার্ডে গিয়ে নৌকার প্রার্থী মুজিবুর রহমান নিজেই যারা নৌকায় ভোট দেবে না তাদেরকে কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছেন।

লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র বর্তমানে কক্সবাজারে হাজার হাজার বিদেশি লোকজন অবস্থান করছেন। একইভাবে সারা বিশ্বজুড়ে কক্সবাজার এক নামে পরিচিতি লাভ করেছে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে কক্সবাজারের সুন্দর পরিবেশ বিনষ্ট হলে কক্সবাজারের উপর বৈশ্বিকভাবে নীতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই আপনারা ক্ষমতার অপব্যহার করে ভোটে প্রভাব বিস্তার করবেন না।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের রাজনীতিতে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং সহাবস্থানের একটা ঐহিত্য আছে। আমরা সারাজীবন এই অবস্থানকে লালন করে রাজনীতি করে আসছি। কিন্তু এভাবে যদি বিএনপি ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের হুমকি প্রদর্শন করা হয় তাহলে সেই ঐতিহ্য বিনষ্ট হয়ে যাবে। এতে করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মারাত্মক ক্ষতি হবে।

ইভিএম কেন্দ্র প্রসঙ্গে কাজল বলেন, তিন কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ষড়যন্ত্রের আভাস রয়েছে। কেননা এক ওয়ার্ডের তিনটি কেন্দ্রেই ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করার কোনো ধরণের যৌক্তিকতা নেই। মূলত ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট কম কাস্ট হয়। তাই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রফিকুল ইসলামের নিজ এলাকা ১১ ওয়ার্ডের সাবকেন্দ্রসহ তিনটি কেন্দ্রেই ইভিএম- এ ভোট নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তা কখনো হতে পারে না। প্রয়োজন হলে সব মেয়র প্রার্থীর কেন্দ্রে একটি করে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নিতে হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী চরমভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। মাত্র পাঁচটি নির্বাচনী ক্যাম্প অফিস করার নিয়ম থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমান শতাধিক ক্যাম্প স্থাপন করেছেন। রঙিন ব্যানার-পোস্টার লাগাচ্ছেন, রাস্তায় প্রদর্শন করা হচ্ছে বড় আকারের কাঠের নৌকা। সব কিছু নির্বাচনী আচরণবিধির বাইরে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কারচুপি এবং প্রভার বিস্তার কোনোভাবে সহ্য করা হবে না। যদি তা করা হয় তাহলে বিএনপি নেতাকর্মীরা সর্বাত্মক শক্তি দিয়ে তা প্রতিরোধ করবে। প্রয়োজনে গণ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এতে কক্সবাজারের শান্ত পরিবেশ নষ্ট হলে তার দায় আওয়ামী লীগকে নিতে হবে।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, জীবনের দীর্ঘ ২৭টি বছর জনগণের সেবায় কাটিয়ে দিয়েছি। এই সময়ে রাত-দিন জনগণের দুঃখ-দুর্দশায় ছুটে গেছি। এর প্রতিদানও পেয়েছি। জনগণ আমার এই সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে বার বার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। মেয়র নির্বাচিত হলে পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পৌরবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাবো ইন্শাল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন পৌর নির্বাচনে সব অপ্রীতির পরিস্থিতি এড়িয়ে সুন্দর, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন বিএনপি নেতারা।

জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক ইউসুফ বদরীর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম নূরুল বশর চৌধুরী, ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, সদস্য সচিব ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।