সিলেটে রেকর্ড তাপমাত্রা ৩৮.০৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৩:২৮ এএম, ২০ জুলাই ২০১৮

বৈশ্বিক উষ্ণায়নে ক্রমেই প্রভাব ফেলছে আমাদের জনজীবনে। সিলেটের বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম আরও বেশি অসহনীয় হয়ে উঠছে। অব্যাহত তীব্র তাপদাহের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। বৈদ্যুতিক পাখা চালিয়েও গরম থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার সিলেট সিটিতে সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক শূন্য ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে সিলেট অাবহাওয়া অফিস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্র ২৮ দশমিক শূন্য ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় আবহাওয়া অফিস সিলেট কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক মেইলবার্তা এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিলেটে তাপদাহ বৃদ্ধির সাথে সাথে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রকমের রোগবালাই। শিশু থেকে শুরু করে যুবক-বৃদ্ধরাও আক্রান্ত হচ্ছেন সর্দি, কাশি, জ্বর, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে। বিশেষ করে গত দুদিনের প্রচণ্ড গরমে জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। ঘামতে ঘামতে রাস্তায় হাঁটছেন পথিক। যানজটে আটকা পড়া মানুষের অবস্থা আরও খারাপ। হাঁসফাঁস অবস্থা রাস্তায় বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষের।

দিন বাড়ার সাথে সূর্যের প্রখরতার প্রচণ্ড তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ নিজ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে একেবারেই বাইরে বের হন না। তবে খেটে খাওয়া মানুষ বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড করতে বাধ্য হচ্ছেন। কোথাও একটু স্বস্তি নেই।

সরেজমিনে কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খেটে খাওয়া লোকজন সামান্য একটু শান্তির আশায় বিভিন্ন গাছের তলায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। তরুণ ছেলেদের বিভিন্ন কোমল পানীয়র দোকানে দাঁড়িয়ে বা বসে এনার্জি ড্রিংক্স, ঠাণ্ডা পানি ইত্যাদি পান করতে দেখা গেছে। সেই সাথে প্রচণ্ড গরমে লেবুর শরবত ও ডাবের পানি বিক্রিও বেড়ে গেছে। ছোট বাচ্চাদের দল বেঁধে পুকুরে নেমে গোসল করতে দেখা যায়।

সিলেটের পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক রকিউল হাসান জুয়েল জানান, এই গরমে বেশিক্ষণ খোলা স্থানে থাকলে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে। চলমান তাপদাহের প্রচণ্ড রোদের তাপ থেকে যতদূর পারা যায় নিজেদের ছায়ায় রাখার চেষ্টা করুন। অবশ্যই সুপেয় পানি পান করতে হবে। শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই গোসল করে শরীর পরিষ্কার করে নেয়া ভালো। বিশেষ করে রোদ থেকে ফিরে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানির সাথে নরমাল পানি মিশিয়ে খাওয়া উচিত। খুব সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

সিলেটের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ জানান, তাপদাহ আরও দু-একদিন এমন অব্যাহত থাকবে। এ বছরে সবেচেয়ে বেশি তাপমাত্রা আজ সিলেটে রেকর্ড করা হয়েছে।

ছামির মাহমুদ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :