ফুটবল খেলায় জয়ী হয়ে ফেরার পথে পরাজিত দলের হামলা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০৯:১৪ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৮

গাজীপুরের শ্রীপুরে আন্তঃস্কুল ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এ সময় জৈনা বাজার-কাওরাইদ আঞ্চলিক সড়কের বলদিঘাট বাজারে বেশ কিছু যানবাহনে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

রোববার দুপুরে উপজেলার কাওরাইদ কেএন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ কেএন উচ্চ বিদ্যালয় ও বলদিঘাট জান মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা চলছিল। খেলার দ্বিতীয় অর্ধের আগেই এক গোলে এগিয়ে যায় বলদিঘাট জান মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়। খেলার শেষের দিকে রেফারির একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে কাওরাইদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেফারির ওপর চড়াও হয়।

খেলা শেষে বলদিঘাট জান মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয় জয়ী হয়। জয়ী দল বাড়ি ফেরার পথে কাওরাইদ অতিক্রম করার সময় বহিরাগতদের সহায়তায় কাওরাইদ কেএন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হামলা চালায়। এতে ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়। খবর পেয়ে বলদিঘাট জান মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা জৈনা বাজার-কাওরাইদ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।

বলদিঘাট জান মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিষয়ের শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, খেলা শেষে আমরা জয়ী হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিই। পথিমধ্যে কাওরাইদ কেএন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমাদের ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদেরকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

তবে হামলায় ঘটনায় কাওরাইদ কেএন উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী জড়িত নয় দাবি করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান বলেন, বহিরাগতরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

কাওরাইদ ইউপির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। পরে আহতদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনাটি যত বড় মনে করা হচ্ছে আসলে তা তত বড় নয়। দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শিহাব খান/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :