মির্জা ফখরুল

জামায়াত একাত্তরের ভূমিকার জন্য মাফ না চেয়ে ভোট চায় কীভাবে?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৪:৩৭ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশ্ন তুলে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী এখনো একাত্তরের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি, তারা ভোট চায় কীভাবে?

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের গড়েয়া ইউনিয়নের চন্ডিপুর বাজারে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, হাসিনা পালানোর পর থেকেই ঠাকুরগাঁয়ের রাস্তাঘাটের কাজ শুরু হয়েছে। ১৬০০ কোটি টাকা নিয়ে এসেছি উন্নয়ন করার জন্য।

দীর্ঘ ১৬ বছর এলাকায় ফিরতে না পারার আক্ষেপ করে তিনি বলেন, অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। ১৬ বছর আপনাদের সামনে আসতে পারি নাই। তখন যে সরকারটা ছিল, সেটি ছিল জুলুমবাজ সরকার। ১১৭টা মামলা আমার বিরুদ্ধে। আমি নাকি ময়লার গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছি—সব মিথ্যা মামলা।

নতুন বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি চান না জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আমাদের সামনে একটি নতুন সুযোগ এসেছে। আমরা প্রতিহিংসা চাই না, আমরা হিংসা চাই না। আমি কোনো প্রতিশোধ নিতে চাই না—এটাই হচ্ছে বিএনপি, এটাই তারেক রহমান।

ঠাকুরগাঁওয়ে নিজের করা আগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প আমি এই এলাকায় নিয়ে এসেছিলাম। ভুট্টা চাষ শুরু করেছিলাম, কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে এয়ারপোর্ট ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করবো। আমাদের মা’দেরকে তারেক রহমান ট্রেনিং দেবেন যেন ঘরে বসেই তারা আয় করতে পারেন।

পথসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, আমি আপনাদের পরিচিত মানুষ। ১৯৮৬ সাল থেকে আপনারা আমাকে চেনেন। তখন আমি পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। আজ পর্যন্ত কেউ আঙুল তুলে বলতে পারবে না যে, আমি আপনাদের আমানতের খেয়ানত করেছি। আমি রাজনীতি করেছি বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে। ঢাকায় যে গাড়ি ব্যবহার করি, সেটি ২০ বছর আগের। আজ যে গাড়িতে এসেছি, সেটিও আমার নয়— একজন সমর্থকের।

ভোটারদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা অনেক বছর ভোট দিতে পারেননি। এবার সুযোগ এসেছে। আমাকে ধানের শীষে ভোট দিলে আমি সংসদে গিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব। আমি কাজ করা মানুষ। আমরা ভিক্ষা নিয়ে বাঁচতে চাই না, আমরা কাজ করে বাঁচতে চাই। ঠাকুরগাঁওয়ে অনেক উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের মা-বোন ও যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

পথসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তানভীর হাসান তানু/কেএইচকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।