সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, ইউএনও’র বিরুদ্ধে জিডি
চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি কাজী নজরুল ইসলামকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যার হুমকি দেয়ায় শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিয়ে জিডি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ ‘টি আর কাবিখা, কাবিটা এবং জি আর’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন ইউএনও জিয়াউর রহমান। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্রকল্প বলে খ্যাত ‘ভিটা আছে ঘর নেই’ এমন হতদরিদ্র লোকদের গৃহ নির্মাণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৫০০ জন দরিদ্র লোককে গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়ম-নীতি লংঘন করা হচ্ছে মর্মে তথ্য পেয়ে সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহকর্মীরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রকল্পের প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে অনিয়ম হওয়ার বিষয়ে ব্যাপক প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথাও জানা যায়। ইউএনও কর্তৃক সম্পাদিত অনিয়ম বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে জানতে পেরে ইউএনও জিয়াউর রহমান সাংবাদিক কাজী নজরুলের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহকর্মীদের মারফত নানা ধরনের গালিগালাজসহ তাকে জীবননাশেরও হুমকি দিতে থাকেন।
গত ২০ জুলাই শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার সময় ইউএনও জিয়াউর রহমান শরীয়তপুর সদর উপজেলা চত্বরে চলমান বৃক্ষ মেলার একটি স্টলে বসে ডিবিসি নিউজের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি বিএম ইশ্রাফিলকে ডেকে নিয়ে তার কাছে অযাচিত ভাষায় উচ্চ স্বরে নজরুলকে গালিগালাজ করেন এবং তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন
এরপর ২১ জুলাই দুপুর দেড়টার সময় শরীয়তপুর জেলা শহরের দুবাই প্লাজায় অবস্থিত চিকন্দী ফুড পার্কে একটি জনাকীর্ণ পরিবেশে বিএম ইশ্রাফিলের কাছে পুনরায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাজী নজরুলকে গালিগালাজ করতে থাকেন ইউএনও জিয়াউর রহমান।
এক পর্যায়ে তিনি বিএম ইশ্রাফিলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সাংবাদিক নজরুলকে আমি গুলি করে মেরে ফেলবো। ওর মত সাংবাদিককে মেরে ফেললে কিছুই যায় আসে না। আমার নাম জিয়াউর রহমান। আমি যা বলি তা করে দেখাই। ওকে আমার অফিসে নিয়ে হাত পা বেঁধে অফিস থেকে লাথি মারতে মারেতে নিচে ফেলে দিব। এছাড়াও তিনি নজরুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করার হুমকি দেন ইউএনও।
এ ব্যাপারে সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমাকে প্রকাশ্যে জীবননাশের হুমকি দেয়ার বিষয়টি ২১ জুলাই রাত ১০টার দিকে বিএম ইশ্রাফিলের কাছ থেকে জানতে পারি। এরপর আমি ইউএনও জিয়াউর রহমানকে রাত ১০টা ৪৪ মিনিটে মুঠোফোনে ফোন করে বিষয়টি জানার চেষ্টা করলে, তিনি আমার পরিচয় জানতে পেরেই আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। আমাকে বলেন- আপনি তো আমাকে চিনেন না, আমার অফিসে আসেন আপনাকে দেখিয়ে দিব আমি কে। আমাকে আর ফোন করলে আপনার গলা কেটে ফেলবো, আপনি একজন অকৃজ্ঞ। আপনি সাংবাদিক নামের কলঙ্ক। আপনি দুই টাকার সাংবাদিক, আপনি আমার বালের সাংবাদিক।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, আমি সরকারি কাজ করেই তো সারতে পারি না । নজরুলকে আবার প্রাণনাশের হুমকি দেব কীভাবে? সে তো বিভিন্ন সরকারি অফিসে অডিটের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করবো।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানি না।
ছগির হোসেন/আরএআর/এমএস