ধুঁকছে মোবারকগঞ্জ চিনিকল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০১:২২ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮

দিন দিন আখ চাষ থেকে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলের এখন দৈন্যদশা। চলতি মৌসুমে চিনিকল এলাকায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার ৫শ একর ধরা হলেও এর পরিমাণ অর্ধেকে নেমে চাষ হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৩৭০ একর জমিতে। এছাড়া এ বছর চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ৫শ মেট্রিক টন ধরা হলেও উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ৬শ মেট্রিক টন।

১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি চিনি উৎপাদন কারখানা, বাণিজ্যিক খামার, জৈব সার কারখানা, অফিস, বিদ্যালয়, অতিথি ভবন ও আবাসন ভবনের সমন্বয়ে গঠিত। ১৯৬৭-৬৮ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানটিতে চিনি উৎপাদন শুরু হয়। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার এ প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রয়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে এর আওতায় আখ চাষির সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৬ হাজার।

মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম জানান, মোবারকগঞ্জ চিনিকলে এ পর্যন্ত ৫১টি মাড়ায় মৌসুম সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র ১০টি মৌসুম ছাড়া বাকি সব মৌসুমেই লোকসান গুনতে হয়েছে এ চিনি কলটিতে। ৯১৭ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী-শ্রমিক নিয়ে বিশাল এ প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর লোকসান গুণতে গুণতে দেউলিয়া হতে বসেছে।

Jhenidah-sugarcane-02

আখচাষি ইসালম মিয়া জানান, আখের জমিতে ধান, কলা ও সবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। আখকে এক ফসলি আবাদ বলা হয়, চিনিকলে আখ দিয়ে সময় মতো টাকা-পয়সা না পাওয়ায় আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকেরা।

এ বিষয়ে মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ইউসুফ আলী শিকদার জানান, ভারী এ শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে হলে বছরে কমপক্ষে ২ লাখ মেট্রিক টন আখ সরবারহ করতে হবে। এছাড়া কারখানার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে নজর দিতে হবে।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :