চাঁদাবাজি বন্ধে নৌ-শ্রমিকদের ৫ দিনের আলটিমেটাম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৮

নারায়ণগঞ্জে নদীপথে সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ও শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৌযান শ্রমিকরা।

একইসঙ্গে নৌ-শ্রমিকদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের আগামী ৫ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে নদীপথে পণ্য পরিবহন বন্ধের আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।

রোববার নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে নদীপথে চাঁদাবাজি বন্ধসহ বালু নদীতে সন্ত্রাসীদের হামলায় চারজন আহতের প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবিতে নৌযান শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত মানববন্ধনে এ আলটিমেটাম দেন শ্রমিকরা।

নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন জেলা শাখার সভাপতি সরদার আলমগীর মাস্টারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার মাস্টার, বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন চুন্নু মাস্টার, লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাস্টার ও নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা কবির হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে যতগুলো শ্রমিক সেক্টর রয়েছে তার মধ্যে নৌ-শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করে থাকে। তারা পরিবার-পরিজন ফেলে মাসের পর মাস বাড়ির বাইরে থাকে। ঈদ উৎসবেও পরিবারকে সময় দিতে পারে না। সাধারণ মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং খাদ্যদ্রব্যসহ আনুষঙ্গিক পণ্য পৌঁছানোর কাজ করে। অথচ তারা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না। একজন মালিক একটি জাহাজ থেকে অসংখ্য জাহাজের মালিক বনে গেলেও শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। অনেক মালিক তার জাহাজের কাগজপত্র ঠিক করে না। ওসব জাহাজ নিয়ে নৌপথে চলাচল করতে গিয়ে শ্রমিকদের দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হতে হয়।

বক্তারা আরও বলেন, পদ্মা নদীর বাঘাবাড়ি বন্দর, শীতলক্ষ্যা মেঘনাসহ বিভিন্ন নদীতে চাঁদাবাজদের দাবিকৃত অর্থ না দেয়া হলে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। কিছুদিন আগে নৌ-পুলিশ গঠন হওয়ার পর আমরা মনে করেছিলাম নদীপথ সুরক্ষিত হবে। কিন্তু নৌ-পুলিশের সামনে যদি নৌ-শ্রমিকের রক্ত ঝরে আর তারা কিছুই করতে না পারে তখন নিজেদেরকে অভিভাবকহীন মনে হয়। যেখানে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি দেয়া দরকার সেখানে না দিয়ে অন্য জায়গায় কেন নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। বালুমহালের কতিপয় দুষ্কৃতকারীর শেল্টারদাতা কারা আমরা জানি। নদীপথে চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না নৌ-পুলিশ। ফকিরখালী, গাবতলী আমিনবাজার, সারুলিয়া, মেঘনায় বৈদ্যেরবাজার, কালিপুরা, শীতলক্ষ্যার বসুন্ধরা সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে নৌ-পুলিশের সামনেই নদীপথে চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

মো. শাহাদাত হোসেন/এএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :