বোনের অভিযোগে ভাইকে থানায় ডেকে এনে নির্যাতন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:২০ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৮

মুন্সীগঞ্জ সদরের গোয়ালপাড়া এলাকার এক বাসিন্দাকে সদর থানায় নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করে হাত পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে অভিযোগকারী মো. আনিছুর রহমান রলিন (৫৭) ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, মায়ের মৃত্যুর পর আমার বোন লাবণী ও ঘর জামাই মো. আরিফ মায়ের সকল টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়। আমি তার প্রতিবাদ করি। গত রোববার আমি সেই বিচার নিয়ে সদরের কোর্টগাঁও মামার বাড়িতে যাই। ওই সময় লাবণী, তার স্বামী আরিফ ও আমার মামা দেলোয়ার হোসেন খোকা আচমকা আমাকে মারধর শুরু করে। পরবর্তীতে সেখান থেকে কোনো রকমে পালিয়ে থানায় চলে আসি।

রলিন আরও বলেন, মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় এসে ওসি আলমগীর হোসেনের সরণাপন্ন হই। তিনি আমার কথা শুনে একটি অভিযোগ করতে বলেন। আমি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে থানায় এসে অভিযোগ করে চলে আসি। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওসি সাহেব এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে ফোন করিয়ে আমাকে থানায় ডেকে নিয়ে যায় এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন।

তিনি বলেন, তুই মাদক ব্যবসায়ী, ইয়াবা বিক্রি করিস। কত বড় সাহস তুই লাবণী আপাকে মেরেছিস। তোর রক্ষা নাই। এই বলে এক কনস্টেবলকে ডেকে আমাকে থানা কাস্টরিতে ঢোকানোর নির্দেশ দেন। তখন আমি ওসি আলমগীর হোসেনকে বলি, স্যার আমি আগে অভিযোগ করলাম। আমার হাসপাতালের চিকিৎসার কাগজপত্র রয়েছে। তাছাড়া আপনি আমার শরীরের সকল জখম দেখেছেন। তারপরও আপনি আমাকে অপরাধী বলছেন। লাবণী জিডি করেছে কিন্তু তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই তবে কি করে আমি তাকে মারধর করেছি। কোন কারণে আমাকে কাস্টরিতে ঢোকাচ্ছেন। তাছাড়া কিছুক্ষণ আগে লাবণী-আরিফ আমার বাসায় ১২/১৫ জন ক্যাডার পাঠিয়েছে আমাকে খো*জার জন্য।

রলিন আরো বলেন, আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকলে ডিউটি অফিসার মো. সুমন আমাকে বলেন, আমি স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি, আপনি ডিউটিরুমে এসে বসেন। পরবর্তীতে রাত তিনটায় দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে ডিউটিরুম থেকে ডেকে অফিসারদের রুমে নিয়ে যায়। এরপর একজন আমার বাম হাতটি ধরে বলেন, যেই হাত দিয়ে লাবণী আপাকে মেরেছিস, সেই হাত তোর নষ্ট করে দেব। এই বলে অপরজন একটি লাইটার দিয়ে আমার হাতটি পুড়িয়ে দেয়। এরপর আমার শরীর আরও খারাপ হতে থাকে। তখন পুলিশ ভ্যান দিয়ে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায় এবং থানায় নিয়ে আসে। ভোর ৬টার দিকে ডিউটি অফিসার আমাকে বলেন, আপনার স্ত্রীকে খবর দেন আপনাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পরে আমার স্ত্রী এলে হলুদ রঙ্গের কাগজে দুইজনের স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। আমি তখন ওই কর্মকর্তাকে বললাম, আমাকে ছেড়ে দিচ্ছেন কেন? আমি যদি অপরাধ করে থাকি তাহলে আমাকে কোর্টে পাঠান। সেখান থেকে বেরিয়ে আসবো। আপনারা আল্লাহকে ভয় পান না। অহেতুক আমাকে মারলেন, হাতটা পুড়িয়ে দিলেন, সারারাত কষ্ট দিলেন। প্রতিউত্তরে ওই কর্মকর্তা বলেন, ভাই আপনার সঙ্গে যা হয়েছে তা খুবই অন্যায় হয়েছে। কিন্তু আমাদের করার কিছুই নেই। সব স্যারদের নির্দেশেই করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, তাদের পারিবারিক ঘটনায় রলিন ও লাবণী উভয়ই অভিযোগ করেছে। তবে আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য রলিনকে থানায় বসিয়ে রাখি। পরবর্তীতে তার স্ত্রীর কাছে তাকে তুলে দেয়া হয়। তবে হাত পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনাটি অস্বীকার করেন ওই কর্মকর্তা।

নুপুর/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।