নদীর সাবেক শ্বশুরকে রিমান্ড শেষে আদালতে সোপর্দ
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আনন্দ টিভি’র পাবনা প্রতিনিধি এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগ্রত বাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক সুবর্না নদী হত্যা রহস্য গত ৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি।
এদিকে ৩ দিনের রিমান্ড শেষে রোববার নদীর সাবেক শ্বশুর আবুল হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। রিমান্ডে নদীর মায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত ইতিবাচক কোনো তথ্য পাইনি বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে পুলিশ আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়।
এছাড়া নদীর সাবেক স্বামী রাজিবের সন্ধান দিতে তার মা এবং বোনকে শনিবার রাতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়।
সুবর্না নদী পাবনা শহরের রাধানগরের ভাড়া বাসায় তার ৭ বছরের মেয়ে জান্নাত, বড় বোনের ছেলে আলিফ হোসেন (৭) এবং মা মর্জিনা বেগমকে নিয়ে বাস করতেন।
পাবনা প্রেসক্লাব গলির রানা শপিং কমপ্লেক্সের ৪র্থ তলায় নদীর অফিস ছিল। গত মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) ওই অফিস থেকেই আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসায় ফেরার পথে বাসার গেটের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত নদীর ওপর হামলা চালায়। তারা চাপাতি দিয়ে নদীর ঘাড়ে পিঠে এবং গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলাপাতারি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়।
পরে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যার পরদিন নদীর মা মর্জিনা বেগম ইড্রাল ফার্মাসি ও শিমলা ডায়াগনস্টিকের মালিক এবং নদীর সাবেক শ্বশুর আবুল হোসেন (৬০), নদীর সাবেক স্বামী রাজিব (৩৫) ও রাজিবের সহকারী মিলনসহ (৩৪) অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে পাবনা থানায় মামলা করেন। এই মামলার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার দেখায়। এর আগে হত্যার রাতেই আবুল হোসেনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল।
পরে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার আবুল হোসেনকে পাবনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক অরবিন্দ সরকার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ হোসাইন শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
কিন্তু আবুল হোসেনের কাছ থেকে কোনো তথ্য না পাওয়ায় হত্যাকাণ্ডের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও নদী হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়নি।
নদী হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক অরবিন্দ সরকার জানান, আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে মামলার অন্য আসামি নদীর সাবেক স্বামী রাজিব এবং তার সহকারী মিলনকে গ্রেফতার করা খুবই জরুরি বলে তিনি জানান। এজন্য রাজিবের মা এবং বোন শাপলাকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
একে জামান/এফএ/জেআইএম