‘বার ও বেঞ্চের সমন্বয়হীনতা বিচারকার্যে ব্যাঘাত ঘটায়’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৫:১৮ এএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাজশাহীতে বদলি হওয়া কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম বলেছেন, বিচারক মহান আল্লাহর প্রতিনিধি স্বরূপ। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে খোদাকে হাজির ভেবেই বিচার কার্য পরিচালনা করেছি। আইনত বিচারপ্রার্থীর পাওনা সবটুকু দেয়ার চেষ্টা করেছি। জ্ঞাতসারে অবিচার করিনি। সীমাবদ্ধতা অনেক, এরপরও একটু উদার মনে চললে সমস্যা হবার কথা নয়। ন্যায়ের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা থাকা বাঞ্ছনীয়। বার ও বেঞ্চের সমন্বয় না থাকলে বিচারকার্যে ব্যাঘাত ঘটে।

বুধবার ও মঙ্গলবার রাতে পৃথক বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনায় অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন। জেলা জজের সম্মেলন কক্ষে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা কর্মচারী ও জেলা লিগ্যাল এইডের পৃথক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

মীর শফিকুল আলম বলেন, আমি সবকিছু খোলাভাবেই দেখে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান দিয়েছি। বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয় করেছি। কর্মের খাতিরে কখনো শাসন, আবার কখনো আদর স্নেহ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, অনেক আদালতে বার ও বেঞ্চের সমন্বয় না থাকায় বিচারকার্যে ব্যাঘাত ঘটে, শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়। দুই বছর আগেও কক্সবাজার আদালতে কঠিন সমস্যা ছিল। ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই আমি দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে কোনো সমস্যা হয়নি। সমস্যাকে সমাধানের চোখে দেখেছি। আইনজীবীদের সাথে সমন্বয় করেছি। পদোন্নতিযোগ্য কর্মচারীদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করেছি।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) তামান্না ফারাহর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এএইচএম মাহমুদুর রহমান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেবুন্নাহার আয়শা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মো. নুর ইসলাম, পুলিশ সুপার (সদ্য বদলি) ড. একেএম ইকবাল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ ছৈয়দ মুহাম্মদ ফখরুল আবেদীন, ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব কুমার বিশ্বাস, যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ (সদর) মাহমুদুল হাসান, সহকারী সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর, সিনিয়র সহকারী জজ আলাউল আকবর, বেগম খাইরুন্নেছা, মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী, সহকারী জজ মোছাম্মৎ নুসরাত জামান, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার শ্রীমতি মৈত্রী ভট্টাচার্য্য, সাজ্জাতুন নেছা, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাং হেলাল উদ্দিন, রাজীব কুমার দেব, মো. তারেক আজিজ, সুশান্ত প্রসাদ চাকমা, মোহাম্মদ রেজাউল হক, জেলা বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মো. ইছহাক (জিপি), জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক ইকবালুর রশীদ আমিন (সোহেল), জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম আব্বাস উদ্দিন, নাজির মোহাং হেফাজুর রহমান, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মু. শাহজাহান এবং বেঞ্চ সহকারী মো. নুরুল হুদা।

সকল বক্তার কামনা, বিদায়ী জেলা জজ মীর শফিকুল আলম যেন দেশের সর্বোচ্চ বিচারকের পদ অলংকৃত করেন। নিজ কর্ম ও গুণে পুরো দেশের জন্য তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত হবেন।

সভা শেষে বিদায়ী জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলমকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মো. বজলুর রশিদ আখন্দ। জেলা জজশিপে কর্মরতদের পক্ষ থেকেও সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী দেয়া হয়। এ সময় জজশিপসহ কক্সবাজার আদালতের বিভিন্ন দফতরের কর্মরতরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলমের কর্মকালের ওপর সচিত্র স্লাইডশো প্রদর্শন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

এদিকে, কক্সবাজারের বিদায়ী জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার জজশিপে শেষ কর্মদিবস পালন করেছেন। শেষে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-১ সৈয়দ মুহাম্মদ ফখরুল আবেদীনকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

কক্সবাজারে নতুন নিয়োগ দেয়া জেলা ও দায়রা জজ খন্দকার হাসান মো. ফিরোজ কক্সবাজারে এখনো যোগদান না করায় এবং কক্সবাজারে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের পদ গত ৬ মাস ধরে শূন্য থাকায় কক্সবাজার জজশিপের তৃতীয় শীর্ষ দায়িত্বশীল বিচারক যুগ্ম জেলা জজ-১ কে বিদায়ী জেলা জজ দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন।

নতুন নিয়োগ পাওয়া জেলা জজ খন্দকার হাসান মো. ফিরোজ আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে যোগদান করবেন বলে জানা গেছে। বিদায়ী জেলা জজ মীর শফিকুল আলমকে রাজশাহীর জেলা জজ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

মীর শফিকুল আলম ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই কক্সবাজার জেলা জজ হিসেবে যোগদান করেন। তিনি অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতার সাথে দায়িত্বপালন করেন। সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর জেলা জজ আদালত ভবনে দুঃস্থ, অসহায় নারীদের বিভিন্ন আইনী সহায়তার জন্য নারী সহায়তাকেন্দ্র উদ্বোধন করেন।

সায়ীদ আলমগীর/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :