গাজীপুরে ভাড়া নিয়ে গণপরিবহনে নৈরাজ্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৫:৩৫ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুরে গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে চলছে নৈরাজ্য। টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ি, রাজেন্দ্রপুর পর্যন্ত মহাসড়কে বৈধ গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকার সুযোগে বাসগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুন থেকে চারগুন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। ভাড়া নিয়ে এ নৈরাজ্য দেখার যেন কেউ নেই।

যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-গাজীপুর মহাসড়কে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে বিভিন্ন কোম্পানির বাস-মিনিবাস। এসব বাস-মিনিবাসের চালক- কন্ডাক্টর ও হেলপারদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতায় যাত্রীরা অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া এসব রুটে অনুমোদনবিহীন একাধিক কোম্পানির বাস-মিনিবাস চলাচল করছে। আগে এক স্টপেজ থেকে আরেক স্টপেজের ভাড়া ছিল ৫ টাকা। এখন সেই ভাড়া নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা। আর ১০ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা করে। সন্ধ্যার পর মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে চলাচল করছে মহাসড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক।

গত কয়েক বছরে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-গাজীপুর রুটে যাত্রী বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লক্কর -ঝক্কর বাস-মিনিবাসের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আশঙ্কার কথা হচ্ছে সংখ্যা বৃদ্ধির বিপরীতে যাত্রী সেবার মান কমেছে বহুলাংশে। দূরপাল্লার গাড়ি ছাড়া এসব রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ লোকাল বাস-মিনিবাস পুরাতন ও লক্কর-ঝক্কর। অনেক গাড়িই চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। এগুলোর কোনো ফিটনেস সার্টিফিকেটও নেই। তারপরও চলাচল করেছে নির্বিঘ্নে। বৃষ্টির দিনে এসব গাড়ির ছাদ বা জানালা বেয়ে পানি পড়ায় যাত্রীদের ভিজে গন্তব্যে যেতে হয়। আবার এগুলোর দরজা বা জানালার ভাঙা কাঁচ জোড়াতালি দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে। অধিকাংশ বাস-মিনিবাসের বসার দুটি আসনের মধ্যবর্তী স্থান এতো চাপা যে যাত্রীদের ঠিকমতো পা রেখে বসা সম্ভব হয় না। রুট পারমিটে উল্লেখিত আসনের চেয়ে ৫/১০টি বেশি সিট লাগানো হয়েছে এগুলোতে। অনেকগুলো গাড়ির সিটের কভারগুলো ছেড়া, নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত।

যাত্রীদের সঙ্গে এসব বাস মিনিবাসের চালক কন্ডাক্টর ও হেলপারদের অসৌজন্যমূলক ব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতা চরমে পৌঁছেছে। কিছু কিছু গাড়ি নামে সিটিং সার্ভিস হলেও আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী উঠিয়ে দ্বিগুন ভাড়া আদায় করছে। পাশপাশি যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো বা নিজেদের খেয়াল খুশি মতো নির্দিষ্ট গন্তব্য পর্যন্ত না গিয়ে মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে গাড়ি বিকল হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া বর্তমানে নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সিটিং সার্ভিসে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো হলেও গাড়িগুলোর চেকার তার চেকিং বইয়ে যাত্রীর সংখ্যা কম দেখায়। এর বিনিময়ে প্রতি স্টপেজে চেকারকে ১০/২০ টাকা বকশিস দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এসব গাড়ির যাত্রীদের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কোনো যাত্রী এর প্রতিবাদ করলে তার রক্ষা নেই। তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এমনকি শারীরিকভাবেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন স্টপেজে যাত্রী ওঠানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় থাকলেও বেশি সময় দাঁড় করিয়ে রাখা হয় গাড়ি। অথচ বিপরীত চিত্র দেখা যায় যাত্রী নামানোর সময়। অনেক সময় গাড়ির গতি অল্প কমিয়ে রাস্তার মাঝখানে ধাক্কা দিয়ে যাত্রী নামিয়ে দেয়া হয়। এতে প্রায়ই যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হন। এমন অভিযোগ বিভিন্ন কোম্পানির বাস-মিনিবাসের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে বলাকা, ভিআইপি, গাজীপুর পরিবহন, কেপি পরিবহন, অনাবিল, আজমেরি, পলাশ পরিবহনসহ আরও কয়েকটি পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযোগ বেশি।

jagonews

এ ব্যাপারে হযরত আলী নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, সিটিং সার্ভিস নামে হলেও প্রতিটি গাড়িই সবগুলো স্টপেজেই থামিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায়। আর ভাড়াও নিচ্ছে কয়েকগুন বেশি। এছাড়া ভিড়ের কারণে নারী-শিশুসহ সব যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আরেক যাত্রী এনামুল হাসান বলেন, এসব গাড়ি চলাচলের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলেই চালক-কন্ডাক্টর ক্ষিপ্ত হয়ে যাত্রীদের ওপর চড়াও হয়। তাই হয়রানি বন্ধে এবং যানবাহনের এসব বিদ্যমান সমস্যা দূরীকরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

গাজীপুর জেলা ট্রাফিক পুলিশের এএসপি আলী আকবর শরীফ বলেন, মহাসড়কে চলাচলকারী এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিতভাবে রেকারিং করে মামলা দায়ের করছি। এ ছাড়া মহাসড়কে কাগজপত্রবিহীন অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আমিনুল ইসলাম/আরএআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :