পাহাড়ের বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রক্ষায় ‘জার্মপ্লাজম’ কেন্দ্র

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পাহাড়ের বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রক্ষায় খাগড়াছড়ির পাহাড়ের প্রথম জার্মপ্লাজম কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। পাহাড়ী এলাকার প্রায় শতাধিক আদি বৃক্ষ রক্ষার্থে এই জার্মপ্লাজম কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। বিলুপ্ত প্রায় বা বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষ স্থান পাবে এ জার্মপ্লাজম কেন্দ্র।

রোববার দুপুরের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা জার্মপ্লাজম কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ের প্রাকৃতিক বন আজ ধ্বংসের পথে। এখানকার প্রায় ৫ হাজার ছড়া বা পানির উৎসমুখ প্রায় শুকিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ে নাম মাত্র সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। কেবল পাবলাখালি বা বান্দরবানের কিছু অংশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। রির্জাভ ফরেস্টের বাইরেও পাহাড়ের কিছু মৌজা বন রয়েছে। এসব মৌজা বন বা পাড়া বন রক্ষায় পার্বত্য জেলা পরিষদকে এগিয়ে আসতে হবে।

Khagrachari-1

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, অনেকেই জানে পার্বত্য চট্টগ্রামে বনভূমি রয়েছে তবে এসব বনভূমি ধ্বংস বা উছাড় হওয়ার পেছনে বন বিভাগের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। বন বিভাগ পাহাড়ের কোনো বন সৃষ্টি করছে না বরং উজার করছে। বন বিভাগের উদাসীনতার কারণে বন থেকে আদি বৃক্ষ হারিয়ে যাচ্ছে।

এসময় আরণ্যক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমদ, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা জাফর আহমদ, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম ও খাগড়াছড়ির জেলা পুলিশ সুপার মো.আহমার উজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে খাগড়াছড়ির জেলা শহরের অদূরে মাটিরাঙ্গার আলুটিলায় প্রায় ৮০ একর পাহাড়ির টিলার ওপর এই জার্মপ্লাজম কেন্দ্র চালু প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রাথমিকভাবে পাহাড়ের বিপন্ন প্রজাতির হরিতকি, বহেরা, চিকরাশি, চাপালিশ, গাবগোলা, মহুয়া, টেউয়া-বর্তা, বাইজ্জ্যাা বাঁশসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এই কেন্দ্রে জার্মপ্লাজমের ধারাবাহিকতায় বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষে প্রজন্মে পর প্রজন্ম প্রাণ সঞ্চারিত হবে।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/আরএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :