ভাসমান গ্রাম অন্তেহরী

রিপন দে
রিপন দে রিপন দে মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৯:৩২ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রকৃতি দু’হাতে তার রূপ বিলিয়ে দিয়েছে সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলা উপজেলায়। এই সিলেটে আছে হাওড়-বাওড়, পাহাড়-নদী, নানা জাতের বৃক্ষরাজী, আছে জলাবন।

তেমনি একটি এলাকা মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার অন্তেহরী গ্রাম। পর্যটকদের কাছে এটা এখনো রয়ে গেছে প্রচারের বাইরে। এই গ্রাম উপজেলার কাওয়াদীঘী হাওড় সংলগ্ন জলের গ্রাম অন্তেহরী।

বছরে ৬-৮ মাস এই গ্রাম জলমগ্ন থাকে। জলমগ্ন এই গ্রামের রূপ বাংলাদেশের অন্য গ্রামের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। পুরো গ্রামই পানির ওপর ভাসমান। ঠিক যেমন ভেসে আছে শাপলাসহ নানা প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির বাকে বাকে নানা প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ যা এক অন্যরকম মোহনীয় দৃশ্য।

jagonews

এই গ্রামেই আছে সোয়াম ফরেস্টে হিজল-তমাল-করছসহ বিভিন্ন গাছগাছালি। অন্তেহরী ছাড়াও আশপাশের অনেকগুলো গ্রামে জলাবন রয়েছে। বড়ই অদ্ভুত এই গ্রামগুলোর দৃশ্য। কোনো গাছের হাঁটু পর্যন্ত ডুবে আছে পানিতে। একটু ছোট যেগুলো, সেগুলো আবার অর্ধেকই ডুবে আছে। কোথাও চোখে পড়বে মাছ ধরার জাল পেতেছেন জেলেরা। কোথাও ঘন হয়ে জন্মানো গাছপালার কারণে কেমন অন্ধকার লাগছে পুরো বনটা। আবার কোথাও একেবারে ফাঁকা শুধু থই থই পানি। মাঝেমধ্যেই গাছের ডালপালা আটকে দেবে পথ। ওগুলো সরিয়ে তৈরি করতে হবে পথ।

jagonews

বনের গাছের ডালে বাসা বেঁধেছে নানা প্রজাতির পাখি। আবার অনেক গাছে আশ্রয় নিয়ছে অনক প্রজাতির বন্যপ্রাণী। বর্ষায় লোকালয় পানির নিচে চলে যায় তাই এসব বন্যপ্রাণী উঠে পড়ে গাছের ওপর। শীতকালে এখানে দাঁপিয়ে বেড়ায় বনবিড়াল, বেজি, শিয়ালসহ নানা প্রজাতির বণ্যপ্রাণী।

সারাগ্রাম পানির নিচে থাকলেও ছোট একটি বাজার আছে অন্তেহরী গ্রামে। ডিঙি নৌকা নিয়ে সেই বাজারে এসে জড় হন আশপাশের গ্রামবাসী। মনে হবে পানির ওপর ভাসমান কোনো এক জাহাজ।

jagonews

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বাসে করে মৌলভীবাজার বা ট্রেনে শ্রীমঙ্গল। সেখান থেকে ৩০ টাকা দিয়ে মৌলভীবাজার। মৌলভীবাজারের চাদনীঘাট এলাকা থেকে সিএনজি অটোরিকশায় কাদিপুর। ভাড়া নেবে ৩৫ টাকা। সেখানে ২/৩ ঘণ্টার জন্য নৌকা রিজার্ভ নেয়া যাবে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়।

এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।