কালীগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাতি


প্রকাশিত: ০৫:৪৬ এএম, ১৩ আগস্ট ২০১৫
প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে একই রাতে তিন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৬৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৭ লাখ টাকাসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মেন্দিপুর ও উত্তর জামালপুর (বালুয়াভিটা) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সন্দেহভাজন ৫ জনকে আটক করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। আটকরা হলেন, উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও (ভিটিপাড়া) গ্রামের সুরুজ আলী ভূঁইয়ার ছেলে শরীফুল ইসলাম (২২), বড়াইদ গ্রামের মৃত শামস উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩০), কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বালীগাঁও গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. রনি মিয়া (১৮) ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার বিবি জোড়া গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০) ও একই জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ইমরা হোসেন (১৯)।
 
ডাকাতির শিকার পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মেন্দিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মুঞ্জুর হোসেন ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী চাচাত ভাইয়ের বাড়িতে বুধবার দিবাগত রাত ৩টায় ১৫/১৬ জনের মুখোশ পড়া একদল সশস্ত্র ডাকাত বাড়ির মূল কলাপসিপল গেইটের তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ৩ লাখ টাকা, সিঙ্গাপুর থেকে পরিবারের জন্য আনা ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও তাদের ব্যবহৃত ১৬টি মোবাইল সেট ও বিদেশি কাপড়-চোপড় লুট করে নেয়।

এ সময় ওই সিঙ্গাপুর প্রবাসীর মা বাধা দিলে তাকে সশস্ত্র ডাকাত দল এলোপাতারি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আহত অবস্থায় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
 
এদিকে, উপজেলার একই ইউনিনের উত্তর জামালপুর (বালুয়াভিটা) গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে মাসুম মিয়ার বাড়িতে অপর এক ডাকাতির ঘটনায় ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও হজের জন্য রাখা ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

সূত্র জানায়, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২/৩টার দিকে ১৫-১৬ জনের মুখোশ পড়া একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ির মূল কলাপসিপল গেইটের তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে। এ সময় তারা পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি রেখে লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাত দলের আঘাতে মাসুমের স্ত্রী আহত হয়। পরে তাকে কালীগঞ্জ উপজেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।  

এদিকে, সংগঠিত তিনটি ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বৃহস্পতিবার উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চান্দেরবাগ এলাকা থেকে পুলিশ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম জাগো নিউজকে জানান, নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে ডাকাতদের ভয়ে আমার ইউনিয়নের লোকজন সব সময় আতঙ্কে থাকি। একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় এলাকার মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সম্প্রতি ওই এলাকার ডাকাত সর্দারসহ ২/৩ ডাকাতকে আটক করেছি। অন্যদের আটকের ব্যাপারে চেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে।

আব্দুর রহমান আরমান/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।