বিএনপি নেতা দুলুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৭:৫৩ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৮

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগ তোলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে নাটোরের সিংড়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বিএনপি।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিংড়া শহরের গোডাউন পাড়া এলাকায় পৌর বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

পাশাপাশি এ নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ এবং সিংড়া পৌর বিএনপির সভাপতি দাউদার মাহমুদকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান মুন্টু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল ফটিক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দাউদার মাহমুদকে সিংড়া পৌর বিএনপির সভাপতি করার পর থেকে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলছেন। তিনি পৌর বিএনপির সভাপতি হওয়ার পর থেকে দলে বিভক্তি সৃষ্টি করে আসছিলেন। এ অবস্থায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশের অজুহাত দেখিয়ে দাউদার মাহমুদকে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সে সময় দুলু বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে দাউদার মাহমুদের কাছে পদ বিক্রি করে দিয়েছেন।

এরপর থেকেই সিংড়া বিএনপির মূলধারার নেতাকর্মীরা দাউদার মাহমুদকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। এর মধ্যে বিক্ষোভ মিছিল, সংবাদ সম্মেলন করেছেন মূলধারার বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এরপরও গত দুই-তিনদিন আগে দাউদার মাহমুদকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করে চিঠি দেন দুলু। এরপর থেকেই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

jagonews

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল ফটিক বলেন, সিংড়া বিএনপির সার্বিক হালচাল তুলে ধরে গত ৫ অক্টোবর ঢাকায় দুলুর সঙ্গে নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা মিটিং করি।

সেখানে দুলু সিংড়া বিএনপিকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দাউদার মাহমুদের কাছে উপজেলা বিএনপির পদ বিক্রি করে দিয়েছেন দুলু। বিএনপি রক্ষার পরিবর্তে নেতাকর্মীদের ওপর স্টিম রোলার চালিয়েছেন দুলু।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান মুন্টু বলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামিম আল রাজির মৃত্যুজনিত কারণে নিয়ম অনুযায়ী যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল ফটিককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করার কথা। ফটিক বিএনপি করার কারণে নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। যে কারণে দলের সেন্টিমেন্ট ইব্রাহিম খলিল ফটিকের পক্ষে। এই অবস্থায় আমরা বিএনপি নেতা দুলুকে অনুরোধ করেছিলাম কমিটি পরিবর্তন না করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে। তিনি কথা দিয়েছিলেন। পরে দলের হাই কমান্ডের কথা বলে দাউদার মাহমুদকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হয়। যা দলের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না।

এ বিষয়ে দাউদার মাহমুদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মদদে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। বিএনপি করার কারণে আমিও অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি।

এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সিংড়া থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামিম আল রাজির মৃত্যুজনিত কারণে ওই পদ শূন্য হলে পার্টি ও হাই কমান্ডের নির্দেশে দাউদার মাহমুদকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রেজাউল করিম রেজা/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।