দালাল ছাড়া কাজ করলে কর্মকর্তারা শুধু শুধু ভুল ধরে

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: ০৫:০৯ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৮

অফিসে প্রবেশ করেই দেখা যায় যে যার মতো ফাইলপত্র ও বিভিন্ন কাগজপত্রে সিল মারায় ব্যস্ত। ভাবসাবে তাদের কর্মকর্তা মনে হলেও আসল পরিচয় হচ্ছে ওরা ‘দালাল’। চাকরি ছাড়াই রীতিমতো অফিস করছেন তারা। বাস্তবে এসব দালালরাই নিয়ন্ত্রণ করছেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সাভার কার্যালয়।

এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন লাখ লাখ গ্রাহক। দেশের অব্যাহত সড়ক দুর্ঘটনায় শত শত মানুষের প্রাণহানী কমাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে সরকারের কঠোর নির্দেশ প্রদানের পরও সতর্ক হচ্ছে না লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।

অবৈধ লেনদেনের বিনিময়ে এক রকম পরীক্ষা ছাড়াই দালালদের মাধ্যমে অদক্ষ চালকদের অবাধে দেয়া হচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্স। বিআরটিএ কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য প্রার্থীকে প্রথমে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হয়। পেশাদার লাইসেন্স-এর জন্য সরকার নির্ধারিত ফি হচ্ছে ১৬৮০ টাকা আর অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ২৫৪২ টাকা। একজন পেশাদার ও অপেশাদার চালককে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)'র মোট ৫টি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এর আগে চালককে তিন মাসের জন্য একটি শিক্ষানবীশ লাইসেন্স (লার্নার) প্রদান করা হয়। যার দ্বারা পরীক্ষার্থীরা উপযুক্ত শিক্ষা লাভের পর পরীক্ষা দেবে। পরীক্ষাগুলো হলো, লিখিত, মৌখিক, জিগজ্যাগ, র্যাম ও সর্বশেষ রোড টেস্ট। এসব পরীক্ষায় সাফল্যর সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পর আরও নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর একজন চালককে দেয়া হয় মোটরযান চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে একজন চালকের হাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে সময় লাগে ৩ মাস। কিন্তু দালাল না ধরলে লাইসেন্স পেতে সময় লাগে ৭ থেকে ৮ মাস। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহককে কম সময়ে লাইসেন্স দেয়ার কথা বলে দালালরা হাতিয়ে নিচ্ছেল লাখ লাখ টাকা। এর সবকিছুই সম্ভব হচ্ছে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে। আর টাকার ভাগ পেতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা থাকছেন নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

অফিসে বসে বসে দালালি করলেও অফিসের কর্মকর্তারা রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করছেন। এসব দালালচক্রের মূলহোতা হলেন নাঝু, কামাল, জামাল ও লাবু।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অফিসের মোটরযান পরিদর্শক মো. সাইফুল্লাহ বাহারে ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে এই দালালচক্র। অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিটিও এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে।

এ অফিসে লাইসেন্স করতে আসা শফিক, জামাল ও হিরন জানান, দালাল দিয়ে কাজ করলে কোনো হয়রানি হয় না। দালাল ছাড়া কাজ করলে কর্মকর্তারা শুধু শুধু ভুল ধরে। তাই বাধ্য হয়ে দালালদের কাছে যেতে হয়।

এ বিষয়ে সাভার বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক সাইফুল্লাহ বাহারের মুঠোফোন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সঙ্গে দালালদের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, আমার অফিসে কোনো দালাল নেই। যদি থাকে ধরিয়ে দিন।

এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।