শহরটাই যেন ময়লার ভাগাড়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১২:০৮ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৮

ঝালকাঠি শহরের বিভিন্ন স্থান এখন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শহরের উল্লেখযোগ্য মোড়, খাল, সড়কের নালাগুলোতে আবর্জনার স্তূপ পড়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে পৌরসভার খালগুলোতে ফেলছেন। ফলে এসব খাল হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বেড়েছে মশা-মাছির চরম উপদ্রবও।

শহরের বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, আড়তদারপট্টির হরিসভার মোড়, আজাদ ভান্ডারের মোড়, আমতলা রোড, বাঁশপট্টি উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফটক, মাছবাজার সংলগ্ন খাল, চাঁদকাঠি জালিয়াপাড়া খাল, বাঁশপট্টি খাল, কুমারপট্টি খাল ময়লা-আবর্জনার স্তূপে একাকার। এসব খালের বেশির ভাগ আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় এখন আবর্জনা ফেলা হচ্ছে সুগন্ধা নদীতে।

শহরের কোথাও ময়লা ফেলার সুনির্দিষ্ট স্থান ও ডাস্টবিন না থাকায় পৌরবাসী পলিথিনে ভরে সড়কেই ফেলে রাখছেন আবর্জনা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে পাশের নালাগুলোতে। বেশির ভাগ নালার কোনো ঢাকনা নেই।

বাঁশপট্টি সড়কের উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে বয়ে গেছে বাঁশপট্টি খাল। বিদ্যালয়ের ফটকের পাশেই রয়েছে একটি ডাস্টবিন। এলাকাবাসী বাসাবাড়ির আবর্জনা ফেলে খালটি প্রায় ভরে ফেলেছেন। ময়লা উপচে পড়ছে সড়কে। আবর্জনার দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রাইমারি শাখার প্রধান শিক্ষক মাহবুবা বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০০ ছাত্রছাত্রী চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ময়লা-আবর্জনার পাশে ক্লাস করছে। পৌর কর্তৃপক্ষের এদিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত।

পৌরসভার বাসন্ডা খালের ডাকঘাটা দিয়ে ব্যবসায়ীদের মালামাল ওঠানো-নামানো হয়। আবর্জনা ফেলায় ডাকঘাটা এলাকায় খালপাড়ের বেশির ভাগ অংশ ভরে গেছে।

জানতে চাইলে পৌরসভার এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, ময়লা ফেলার জন্য পৌরসভায় নির্ধারিত স্থান নেই। তাই বাধ্য হয়ে খালে ফেলি।

ঘাটশ্রমিক বাবুল মিয়া ও হেলাল বলেন, এই খালের পানিতে ময়লা ফেলায় গোসল করতে পারি না। নিষেধ করা সরত্ত্বও খুব সকালে ময়লা ফেলে যায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কর্মীরা সকালে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করে এলেও ৮টার মধ্যে বাসাবাড়ির লোকজন রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখেন। শহরের সীমিত কিছু এলাকার বাসাবাড়ির ময়লা একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হলেও অধিকাংশ মহল্লার মানুষ এর খরচ বহন করতে আগ্রহী নন।

পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য পৌরসভার কোনো ভাগাড় (ডাম্পিং স্পট) নেই। বাসন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের কাছে কুলিয়ারি মৌজায় একটি জায়গা দেখেছি। বিষয়টি চূড়ান্ত হলে সেখানে ভাগাড় স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেব।

আতিকুর রহমান/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।