শিক্ষা কর্মকর্তা বললেন ২-৩ মাসের অগ্রিম বেতন নেয়া যায়

রিপন দে
রিপন দে রিপন দে মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৯:৪৭ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে মৌলভীবাজারের হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্ধারিত ফির চেয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি নিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার মতো হাতিয়ে নিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

জানা যায়, এবারের এসএসসির ফরম পূরণের ক্ষেত্রে মানবিক এবং ব্যবসা বিভাগের জন্য ১৮২০ এবং বিজ্ঞানের জন্য ১৮৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে শিক্ষাবোর্ড। কিন্তু মৌলভীবাজারের পৌর শহরের হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মানবিক এবং ব্যবসা বিভাগে ২৬১০ এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২৭০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। যা নির্দিষ্ট ফি থেকে প্রায় ৮০০-৯০০ টাকা বেশি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং অভিভাবকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা জানায়, মানবিক এবং ব্যবসা বিভাগে ২৬১০ এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২৭০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। তাদেরকে বিদ্যালয় থেকে বলে দেয়া হয়েছে যেন বেশি টাকা নেয়ার ব্যাপারে কোনো তথ্য বাইরে প্রকাশ করা না হয়।

অতিরিক্ত ফি দেয়া এক ছাত্রীর অভিভাবক ফারুক মিয়া বলেন, অতিরিক্ত ফি নেয়ার প্রতিবাদ করেও কোনো কাজ হয়নি। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতির কাছে অভিযোগ করব আমি।

বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ বছর এসএসসিতে অংশ নেয়ার জন্য মানবিক এবং ব্যবসা বিভাগে ১৩৪ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ৬১ জন এবং গত বছরের এসএসসি থেকে বাদ পড়া ৮৪ জন ফরম পূরণ করছে। অতিরিক্ত ফি নেয়া হিসাবে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখের অধিক। এই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সামাদ মিয়া বলেন, নির্দিষ্ট ফির কথা বলা থাকলেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মতামতের ভিত্তিতে অগ্রিম ২-৩ মাসের বেতন নেয়া যায়। হয়তো এ জন্য অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠান।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পৌর মেয়র ফজলুর রহমান বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ব্যাপারে আমাকে কিছু বলাও হয়নি, কোনো আলোচনাও হয়নি। যদি অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়ে থাকে তবে সেটা প্রধান শিক্ষিকার সিদ্ধান্তে নেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে হাফিজা খাতুন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।

এএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :