মানিকগঞ্জের নিষ্ক্রিয় বিএনপিতে নতুন সঙ্কট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:০৮ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

সাংগঠনিকভাবে প্রায় নিষ্ক্রিয় মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপিতে নতুন সঙ্কট তৈরি হয়েছে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে। তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতেই মনোনয়ন চান জেলা বিএনপির সভাপতি। আবার একই আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আপন দুই ভাই। উপজেলা পরিষদের ৪ চেয়ারম্যানও চাইছেন দলীয় টিকিট।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন আসনে মোট ১৮ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ হয়েছে মানিকগঞ্জ-১ আসনের জন্য।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত হারুনার রশিদ খান মুন্নুর মেয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রীতা মানিকগঞ্জ ১ ও ৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের আসন মানিকগঞ্জ-১ এ প্রার্থী হতে চান তার বড় ছেলে আকবর হোসেন বাবলু এবং মেজ ছেলে অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ডাবলু। বাবলু জেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক। আর ডাবলু কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি।

এছাড়া এই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএ জিন্নাহ কবীর, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, ঢাকাস্থ মানিকগঞ্জ সমিতির নেতা অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুব হোসেন মহব্বতের স্ত্রী বিএনপি নেত্রী খোন্দকার আতিকা রহমানসহ ৯ জন।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিঃ মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, সিংগাইর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান রোমান, হরিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল হুদা চৌধুরী শান্ত ও বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এদিকে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপি সভাপতি আফরোজা খান রীতা ছাড়াও দলীয় মনোনয়ন চান জেলার সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ও বিএনপি নেতা আলী আশরাফসহ ৫ জন।

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মানিকগঞ্জ জেলার সবকটি আসন বরাবরই তাদের দখলে ছিল। কিন্তু নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আসন ৩টি (আগে ৪টি ছিল) দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। অনেকে মনে করেন নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই আসন তিনটি হাতছাড়া হয় বিএনপির।

এক যুগ পর ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির ১৬ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা হলেও গত ৫ বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। সভাপতি-সম্পাদকের দ্বন্দ্বও চরমে। বিভিন্ন মামলার রায়ের প্রতিবাদ, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মুক্তির দাবিসহ দলীয় কর্মসূচিও পালিত হয়নি এই জেলায়। এমনকি জেলা বিএনপি কার্যালয়ই খোলা হয় না বহুদিন।

গত ১০ বছরে একাধিক মামলায় সভাপতি ছাড়া আসামি হয়েছেন জেলা বিএনপির প্রায় সব নেতাই। তাদের অনেকেই জেলে রয়েছেন অথবা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ অবস্থায় দল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণায় তৃণমূলে আশার সঞ্চার হলেও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় নতুন সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক নেতা।

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মোকসেদুর রহমান সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা স্বীকার করে বলেন, মানিকগঞ্জ বিএনপির ঘাঁটি। নেতাদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধাবিভক্তি থাকলেও সাধারণ ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সুযোগ পেলেই ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন তারা।

মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, মনোনয়ন সবাই চায়তে পারেন কিন্তু দল তিনটি আসনে তিনজনকেই মনোনয়ন দেবে। যাকে মনোনয়ন দেবে তাকে নিয়েই সবাই নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

বি.এম খোরশেদ/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :