বাহাদুরাবাদ নৌরুট চালু হলে আবারও ট্রেন চলাচল শুরু হবে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

১৪ বছর ধরে অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হয়ে গেছে গাইবান্ধার ত্রিমোহিনী-বালাসিঘাট রেলপথের অসংখ্য কাঠের স্লিপার। এসব কাঠের স্লিপার বদলানো ছাড়া এ পথে শুরু করা যাবে না ট্রেন চলাচল। ২০২০ সালের দিকে ফুলছড়ি উপজেলার বালাসিঘাট ও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ নৌরুটে যমুনা নদীতে ফেরি ও লঞ্চ সার্ভিস শুরু হলে আবারও দিনাজপুর-বালাসিঘাট রুটে ট্রেন চালু করা হবে বলে জানা গেছে।

রেলওয়ে বিভাগ ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৩৮ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত অল্প খরচে ও স্বল্প সময়ে ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের ৮টিরও বেশি জেলায় যাতায়াতের জন্য গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাট জেলার মানুষজন প্রথমে গাইবান্ধার ফুলছড়ির তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ও পরে বালাসি-বাহাদুরাবাদ নৌরুট ব্যবহার করে যাতায়াত করতো। এতে দূরত্ব যেমন কমে যেত তেমনি সময় সাশ্রয়, অল্প টাকায় যাতায়াত ও জ্বালানির অপচয় রোধ হতো।

১৯৮৬ সাল থেকে দিনাজপুর-তিস্তামুখ ঘাট ও দিনাজপুর-বালাসিঘাট রুটে আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ও পরে একতা এক্সপ্রেস এবং একটি মেইল ট্রেন চালু ছিল। নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণ দেখিয়ে ২০০৪ সালে যমুনা নদীর বালাসি-বাহাদুরাবাদ নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হলে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। লিজ নেয়া জমিতে ১৯৯৭ সালের নভেম্বর মাসে গাইবান্ধার ত্রিমোহিনী থেকে বালাসিঘাট রেলপথ চালু করা হয়।

Gaibandha-Photo

বালাসি-ত্রিমোহিনী রেলপথ সরেজমিনে দেখা গেছে, এ রেলপথের অসংখ্য স্থানে কাঠের স্লিপার পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। রেললাইনের নিচের মাটি বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ে সরে গেছে। বেশ কিছু স্থানে মরিচা পড়ে গেছে রেললাইন। সরিয়ে নেয়া হয়েছে বালাসিঘাট ও আনন্দবাজার রেল স্টেশনের টিনের তৈরি ঘর ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি। এখন ত্রিমোহিনী-বালাসি রেলপথে শুধু রেললাইন ছাড়া আর কিছুই নেই।

বালাসিঘাটে মালবাহী বগি পড়ে রয়েছে ১২টি। রয়েছে একটি লোহার যন্ত্র। যা রোদে-বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই রেলপথের নয়টি রেলব্রিজে দায়িত্ব পালন করেন নয়জন খালাসি (ব্রিজ) পদের কর্মচারি। রেলব্রিজের পাইলিংগুলোও মেরামত করতে হবে।

Gaibandha-Photo

খালাসি জয়নাল হক বলেন, রেললাইনের অসংখ্য কাঠের স্লিপার পাল্টাতে হবে। বেশ কয়েকটি রেলব্রিজের পাইলিং মজবুত করতে হবে। এসব কাজ না করলে রেল চলাচল ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাফিজার রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বালাসি-বাহাদুরাবাদ নৌরুট চালু হলে আবারও দিনাজপুর-বালাসি রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার কারণে ত্রিমোহিনী-বালাসি রেলপথ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, রেলপথ ব্যবহারের অযোগ্য হলে তা মেরামত করা হবে। তারপরই ট্রেন চলাচল শুরু করা হবে।

রওশন আলম পাপুল/এমএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]