ডাক্তার না হয়েও তিনি করেন সব ধরনের অপারেশন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৫:৩১ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৮

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জাহাঙ্গীর জেনারেল হাসপাতালের মালিক চিকিৎসক না হয়েও নিজেই করেন সিজারিয়ান সব অপারেশন। গতকাল সোমবার এমনই এক অপারেশন করার সময় পারভীন আক্তার নামে (২৪) এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার জোনাইলের কুমারখালী গ্রামের রাশিদুল ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনায় হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার পারভেজ সরেজমিনে গিয়ে হাসাপাতালের নানা অনিয়মের কারণে সিলগালা করে বন্ধ করে দেন। এঘটনায় হাসপাতালের মালিক জাহাঙ্গীর আলমের বাবা নাজমুল হোসেনকে আটক করা হয়েছে। অপরদিকে হাসপাতাল মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন পলাতক রয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার পারভেজ জানান, হাসপাতালের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। হাসপাতালের মালিক জাহাঙ্গীর আলম পল্লী চিকিৎসক হয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এনেসথেসিয়া ও ছোট-বড় সকল অপারেশন করেন। নার্সিং পাস না করেই ওটি ইনচার্জ ও সহকারী নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সতের ও আঠারো বছরের দুই তরুণী। কোনো মেডিকেল অফিসার বা আবাসিক মেডিকেল অফিসারও নেই। সব মিলিয়ে রোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জাহাঙ্গীর আলম। এ কারণে হাসপাতালটি সিলগালা করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জাহাঙ্গীর নিজেই সিজারিয়ান অপারেশন করেন উপজেলার জোনাইলের কুমারখালী গ্রামের রাশিদুল ইসলামের স্ত্রী গৃহবধূ পারভীন আক্তারের (২৪)। এসময় নিজেই এনেসথেসিয়া (অজ্ঞান) করেন তিনি। অপারেশনের সময় নবজাতককে জীবন্ত বের করলেও শিশুটির মাথার ডান পাশে ছুরির আঘাতে কেটে যায়। পরবর্তীতে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়া হয় ঘটনাটি। গ্রামবাসী পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, এই হাসপাতালে আখের আলী মন্ডল, ডলি রানী ও তানিকুর রহমান নামে তিনজন এমবিবিএস ডাক্তার মাঝে মধ্যে অপারেশন করতে আসেন। যে সকল রোগী ও তার পরিবার শিক্ষিত ও সচেতন তাদেরকে পাস করা ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করান তিনি। আর যারা গ্রামের অল্প শিক্ষিত তাদের ওই সকল ডাক্তারের কথা বললেও রোগীকে ওটিতে অজ্ঞান করে নিজেই অপারেশন করেন জাহাঙ্গীর। আর এভাবে অনেক রোগীই তার ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন। তবে এই রোগীর ব্যাপারে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জাহাঙ্গীর মৃত রোগীকেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তার ভুল চিকিৎসায় শত শত রোগী এখনও যন্ত্রণা পোহাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অপারেশন করেছেন ডা. তানিকুর রহমান। কিন্তু তানিকুর রহমান জানান, ওই অপারেশন তিনি করেননি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ইউএনও আনোয়ার পারভেজও ওই রোগীর নথি-পত্র অনুসন্ধান চালিয়ে তানিকুর রহমানের অপারেশন করার সত্যতা খুঁজে পাননি।

রেজাউল করিম রেজা/এমএএসএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।