টিউবওয়েল বসাতে গিয়ে মিলল গ্যাসের সন্ধান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পিরোজপুর
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ এএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮

পিরোজপুরে একাধিক স্থানে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় একটি টিউবওয়েল বসানোর সময় পাইপ থেকে বুদ বুদ শব্দ হতে থাকলে কৌতুহলবশত ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে গর্তের মুখে ধরতেই দাউ দাউ আগুন জ্বলে ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে একনজর দেখার জন্য ভিড় জমায় উৎসুক জনতা।

জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৪নং ইকড়ি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের প্রবাসী মো. দেলোয়ার হোসেনের নতুন বাড়ির একটি অগভীর নলকূপ থেকে এ গ্যাস উদগীরণ হচ্ছে। আর ওই গ্রাসের আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখে আতঙ্কে রয়েছেন পরিবার ও প্রতিবেশীরা।

কুয়েত প্রবাসী মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন থেকে কুয়েতের মাদ্রাজায় আছেন। তার পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে কামরুল থাকেন সৌদতে। তিন মাস আগে বাড়িতে এসেছেন তিনি। এর মাঝে একবার এসে সাড়ে ছয় কাঠা জমি কিনে একটি নতুন বাড়ি তৈরি করেন। তখন সময়ের অভাবে তা সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। শুকনো মৌসুমে পানির সমস্যা থাকে। তাই বুধবার (৫ ডিসেম্বর) একটি অগভীর নলকূপ কেনেন তিনি। টিউবওয়েল বসানোর ফাঁকে এক মিস্ত্রি সিগেরেট ধরালে ওই আগুনের স্ফুলিঙ্গ পানিতে পড়তেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এ অবস্থায় মিস্ত্রিরা একটি ভেজা কাঁথা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে টিউবওয়েলের মাথা লাগিয়ে চলে যান।

পরে খবরটি উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদারকে জানালে ওইদিনই তিনি এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা গিয়ে টিউবওয়েল চেপে দিয়াশলাই ধরাতেই পুনরায় আগুন জ্বলে ওঠে। এটা দেখতে এলাকাবাসীও ভিড় জমায়।

বর্তমানে টিউবওয়েলটি অব্যবহৃত অবস্থায় রাখা হয়েছে। পাশেই দেলোয়ারের রান্নাঘর। ফলে তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন বলে জানান।

এদিকে ওই এলাকার আলম গাজী নামে একজন জানান, ৩ বছর আগে একই এলাকার মাওলানা খলিলুর রহমানের বাড়িতেও একটি টিউবয়েল থেকে একইভাবে গ্যাস উদগীরণ হলে তিনি সেটি ভয়ে বন্ধ করে দেন। তাছাড়া ওই ইউনিয়নের অনেক স্থানে টিউবয়েল বসানোর চেষ্টা করা হলে সেট না হওয়ায় পানির সমস্যায় পড়তে হয় অনেক বাড়ির মানুষকে।

এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমান পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল হাই হাওলাদার জানান, এর আগেও ওই এলাকায় একইভাবে গ্যাস উদগীরণ হয়েছে। মনে হচ্ছে এই ইউনিয়নের ভূগর্বে গ্যাসের ক্ষণি থাকতে পারে।

হাসান মামুন/এফএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :