বোরহানউদ্দিনে ৯টি মোটরসাইকেলে আগুন, ৪ সাংবাদিককে মারধর
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দু'গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় দলের ৫০ থেকে ৬০ জন আহত হয়েছেন।
এসময় ৯টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং ১টি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়েছে। একই ঘটনায় ৪ জন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার সকালে বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাকিম উদ্দিন ও উদয়পুর এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ভোলা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সকালে ঢাকা থেকে আসে। সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রচারণা চলছিল। ওই সময় বিএনপির কর্মীরা আওয়ামী লীগের ওপর প্রথমে হামলা চালায়। পরে দু’গ্রুপের মধ্যে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। পরে উদয়পুর রাস্তায় এলে আবারও সংঘর্ষ বাধে দু’গ্রুপের মধ্যে। এতে উভয় দলের ৫০/৬০ জন নেতাকর্মী আহত হয়।

এ ঘটনার ভিডিওধারণ করতে গেলে এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার আফজাল হোসেন, দৈনিক প্রথম আলোর ভোলা প্রতিনিধি নেওয়ামত উল্ল্যাহ, মোহনা টেলিভিশনের ভোলা প্রতিনিধি জসিম রানাসহ ৪ জন সাংবাদিকের উপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভোলা-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান এমপি আলী আজম মুকুল।
তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহীম সকালে লঞ্চ বোঝাই ক্যাডার বাহিনী নিয়ে হাকিম উদ্দিন লঞ্চ ঘাটে নামে। সেখানে আমাদের কর্মীরা নির্বাচনের প্রচারণা করছিল। তাদের উপর হাফিজ বাহিনী হামলা চালায়। এছাড়াও উদয়পুরে টবগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল চৌধুরী নির্বাচনী প্রচারণা করার সময় বিএনপির নেতা সেলিমের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে কামরুলসহ ৫০ জন নেতাকর্মীকে আহত করে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ অফিস, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে তারা।
বোরহানউদ্দিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টবগীর চেয়ারম্যান কামরুলের নেতৃত্বে আমাদের লোকজনের উপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের কিছু মোটরসাকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। ২০/২৫ জন আমাদের নেতাকর্মী আহত রয়েছে। তবে সাংবাদিকদের ওপর কারা হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ও ল্যাপটপ নিয়ে গেছে আমি জানি না।
বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ওসি অসীম কুমার বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এমএএস/এমএস