ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী শাহীনুর পাশার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০১:০৮ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আবাসন ব্যবসার কথা বলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা করে ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়। সেই মামলায় মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত এই পরোয়ানা জারি করেন।

আদালতের সরকারী কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান বলেন, শাহীনুর পাশা সিলেট শহরে বসবাস করায় গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করতে সিলেট কোতোয়ালী থানা ও তার নিজ এলাকা সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানায় পাঠানো হয়েছে।

সরকারি কৌঁসুলির দফতর সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী ঢাকার বনানীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী তালুকদার একজন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। গত ১৩ ডিসেম্বর আদালতে তিনি প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন। বাদীর অভিযোগ, শাহীনুর পাশার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে তার পরিচয় হয়। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে তার ‘মাতৃভূমি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড’ নামে একটি আবাসন প্রকল্প আছে জানিয়ে ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মোহাম্মদ আলী তালুকদারকে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হওয়ার প্রস্তাব দেন। মোহাম্মদ আলী ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কয়েক দফায় ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন।

কিন্তু শাহীনুর পাশা তাকে না জানিয়ে একপর্যায়ে প্রকল্পটি বিক্রি করেন। এরপর থেকে বারবার যোগাযোগ করলে শাহীনুর পাশা টাকা দেননি। চলতি বছর শাহীনুর টাকা পরিশোধের জন্য ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের একটি চেকে পাঁচ লাখ টাকা দেন। একই ব্যাংকের ভিন্ন ভিন্ন তারিখে আরও তিনটি চেকসহ মোট ২০ লাখ টাকার চেক দেন। কিন্তু এসব চেক নগদায়নের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের গুলশান শাখায় জমা দিলে ডিজ-অনার হয়।

এরপর মাওলানা শাহীনুর পাশার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত দেয়ার অনুরোধ করলে তিনি জানান, ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকার লভ্যাংশসহ ফেরত দেবেন। গত ২২ অক্টোবর শাহীনুর পাশা তার পরিচিত এ মামলার স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে পাওনা টাকার কথা অস্বীকার করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মামলা করেন।

মামলার অভিযোগ ও গ্রেফতারি পরোয়ানার ব্যাপারে জানতে চাইলে মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী বলেন, ‘মামলা দায়েরের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে মোহাম্মদ আলী তালুকদার আমার কাছে টাকা পান।’

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২০ জুলাই সুনামগঞ্জ-৩ আসনে উপনির্বাচনে শাহীনুর পাশা চৌধুরী চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এমএ মান্নানের সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রায় ৭৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মনোনীত হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচন করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোটের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।

ছামির মাহমুদ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :