ঠাকুরগাঁওয়ে কৌশলী বিএনপি
কয়েকদিন আগেও ঠাকুরগাঁও জেলায় ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারের চিত্রটা ছিল উৎসবমুখর। প্রার্থীরা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে দলবেঁধে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সরকার বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হয়রানি বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আতঙ্কে ভোটের মাঠ ছাড়ছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। গ্রেফতার আর হয়রানি এড়াতে নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে আত্মগোপনে যাচ্ছেন অনেকে।
ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রচারে এগিয়ে আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নিজ নিজ আসনে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। চষে বেড়াচ্ছেন পাড়া-মহল্লা, ও হাটবাজার।
ভোটারদের সামনে তারা তুলে ধরছেন সরকারের ৫ বছরের সাফল্যের চিত্র। দিচ্ছেন আরও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। ফের ক্ষমতায় গেলে অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সমাপ্ত করার আশ্বাস দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বলছেন, গত দশ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে তার ধারাবাহিকতা রক্ষায় ভোটাররা আবারও নৌকায় ভোট দিবেন।
অন্যদিকে প্রচারে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট প্রার্থীদের চেয়ে তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। তারা বলছেন, তাদের প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। মাঠে নামলেই পুলিশ গ্রেফতার করছে। এসব কারণে তারা স্বাভাবিক প্রচার চালাতে পারছেন না। তাই ভিন্ন কৌশলে প্রচার চালাচ্ছেন তারা।
ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন বাবু বলেন, বিএনপি নির্বাচনে হেরে যাবে বলেই আওয়ামী লীগের ওপর নানা রকম অভিযোগ তুলছে। অনেক সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হবে বলে আশা প্রকাশ করছি। মানুষ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্যই নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান বলেন, পুলিশ প্রতিদিনই নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে হানা দিচ্ছে। বিশেষ করে এজেন্ট হতে পারেন এমন নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে পুলিশ। এ অবস্থায় ভোট কেন্দ্রের সম্ভাব্য এজেন্টদের নিরাপদে রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নির্বাচনী প্রচার সীমিত রেখে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের হাত থেকে রক্ষা এবং ভোটের দিন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক নেতাকর্মী রাখার কৌশল নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।
বিএনপি নেতাদের দাবি, গ্রেফতার এড়াতে নেতাকর্মীরা এখন আত্মগোপনে। পুলিশি হয়রানির কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাড়িতেও রাত্রিযাপন করতে পারছেন না।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গায়েবি মামলা করা হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করা হয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে চলছে পুলিশি হানা। জেলায় এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলার সংখ্যা শতাধিকের বেশি।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ বলেন, নির্বাচন তো দূরের কথা, নেতাকর্মীরা বাড়িতেই থাকতে পারছেন না। মামলার আসামি না হলেও বিএনপি নেতাকর্মী পেলেই নতুন মামলায় আসামি করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, গায়েবি মামলায় বিনা ওয়ারেন্টে বিএনপির প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশি গজব থেকে এখানে কেউ রেহাই পাচ্ছে না।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের বিএনপির নেতারা অভিযোগ করে বলেন, প্রকাশ্যে তো দূরের কথা, উঠান বৈঠকও করা যাচ্ছে না। যেসব নেতাকর্মী ভোটে ভূমিকা রাখতে পারেন, বেছে বেছে তাদেরই তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। পরে নাশকতার মামলা দিয়ে জেলে পাঠাচ্ছে। তবে যত বাধাই আসুক ভোটের শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবো।
বিএনপির সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন সময়ে দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এসব আসামিদের গ্রেফতারের পর বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সে তাদের দলের লোক। প্রকৃতপক্ষে দলীয় বিবেচনায় কাউকে গ্রেফতারের সুযোগ নেই।
রবিউল এহসান রিপন/আরএআর/জেআইএম