বিএনপি নেতাকর্মীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৫

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

অবস্থা বেগতিক দেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ৭০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। সোমবার বিকেলে কুলিয়ারচর বাজার এলাকার থানা রোডে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- তপু হোসেন, ফেরদৌস, রুবেল, ইব্রাহিম ও কাশেম। তাদেরকে বাজিতপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

একই ঘটনায় কুলিয়ারচর থানা পুলিশের একজন এসআই, একজন এএসআই ও চারজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

তারা হলেন- নাজির (২৪), কাজল (২৬), সাগর (১৮), কালাম (৪০), শামীম (১৯) ও আবদুল্লাহ গালিব (২০)। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেলে কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী শরীফুল আলম প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে পৌরসভা রোড থেকে একটি মিছিল নিয়ে থানার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল।

তাদের মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় শরীফুল আলম পুলিশকে জানান তিনি নির্বাচনী গণসংযোগ করছেন। পুলিশ তার কথা না শুনে মিছিলটি কুলিয়ারচর বাজারে প্রবেশে বাধা দেয়। এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়ে।

অবস্থা বেগতিক দেখে ৭০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। গুলি ছুড়লে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। সেই সঙ্গে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট বিদ্ধ হন পাঁচজন বিএনপি নেতাকর্মী। পাশাপাশি পুলিশের ছয়জন সদস্য আহন হন। ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

বিএনপি প্রার্থী শরীফুল আলম বলেন, নির্বাচনে ঠিকমতো প্রচারণা চালাতে পারছি না। সবখানে বাধা দেয় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিকেলে এলাকার একটি জানাজা শেষে কিছু নেতাকর্মী নিয়ে গণসংযোগ করতে বাজারে ঢুকার সময় পুলিশ বাধা দেয়। সেই সঙ্গে আমাদের ওপর আক্রমণ করে গুলি ছোড়ে ১০ জনকে আহত করে এবং ছয়জনকে থানায় নিয়ে যায়।

কুলিয়ারচর থানা পুলিশের ওসি মো. নান্নু মোল্লা বলেন, শরীফুল আলম নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মিছিল করছিল। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দিলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। আত্মরক্ষায় ৭০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে কয়েকজন আহত হয়।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/এমএস