রাজশাহী অঞ্চলে তিন স্তরের পোলিং এজেন্ট বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ১২:৩৭ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮

রাজশাহী অঞ্চলে তিন স্তরের পোলিং এজেন্ট নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট। ঝুঁকি এড়াতেই এই পরিকল্পনা নিয়েছে ক্ষমতাসীনদের বিরোধী এই জোট।

জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পুলিশের গণগ্রেফতার ও হয়রানিতে ধানের শীষের সম্ভাব্য পোলিং এজেন্টরা এলাকা ছাড়া। তাদের চিহ্নিত করতে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে আইন-শৃংখলা বাহিনী। ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট শূন্যতা রুখতেই তাদের এ বিকল্প পরিকল্পনা।

নেতারা বলছেন, ভোট গ্রহণের সময় অনিয়ম ধরবেন পোলিং এজেন্টরা। একজন ভোট কেন্দ্রের ভেতরে এবং আরেক জন বাইরে থাকবেন। ভেতরের জনকে যদি আইন-শৃংখলা বাহিনী হেফাজতে নেয়, তবে বাইরের জন ভেতরে যাবেন। তাদের এই পরিকল্পনায় শরীক দলগুলোর সাথে সমঝোতা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় এবার ৫ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে শুক্রবার পর্যন্ত পোলিং এজেন্টের তালিকা দেয়নি বিএনপি ও জামায়াত।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, পোলিং এজেন্টের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের একাধিক তালিকা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

গ্রেফতার এড়াতে ভোটের আগের দিন তালিকা জমা দেয়া হবে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে। ভোট শুরুর পর পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে নিয়োগপত্র হস্তান্তর করবেন।

সূত্র মতে, পোলিং এজেন্টদের তিনটি তালিকার মধ্যে প্রথম তালিকায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আছেন। দ্বিতীয় তালিকায় রয়েছেন শুধু দলের নারী কর্মীরা। তৃতীয় তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে ছোট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে।

জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের ৩৯ জন প্রার্থী রয়েছে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনে। কিন্তু কেন্দ্রে এজেন্ট পাঠানোর মতো জনবল নেই দলটির। ফলে বিএনপি নেতাকর্মীরাই ইসলামী আন্দোলনের নামে বিকল্প এজেন্ট হিসেবে থাকবে। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করেই বিএনপি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বিভাগে রাজশাহী জেলায় ধানের শীষের পোলিং এজেন্টের সংকট না থাকলেও পার্শ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাট জেলায় পর্যাপ্ত পোলিং এজেন্ট পাচ্ছে না বিএনপি।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের হামলা ছাড়াও অব্যাহত গ্রেফতারের ফলেই এই শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, দলটির এমন নেতাকর্মীরা বুধবার রাতেই গা ঢাকা দিয়েছে।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের ধীনের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশীদ জানান, দুই রাত ধরেই ধানের শীষের সম্ভাব্য এজেন্টদের গ্রেফতারে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। তবে কাউকে ধরতে পারেনি। বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, বিকল্প হিসেবে একাধিক স্তরের পোলিং এজেন্টদের তালিকা তৈরি আছে।

তবে সম্ভাব্য পোলিং এজেন্টদের গ্রেফতারের অভিযোগ অস্বীকার করেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন। তিনি বলেন, পোলিং এজেন্টদের গ্রেফতারে কোনো অভিযান হচ্ছে না। কেউ নির্দিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রমাণ হলেই কেবল পুলিশ তাদের ধরছে। পুলিশ ভোটের সার্বিক সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এমএমআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।