সরকারি চাকরির বয়স শেষ হওয়ায় মনিরুলের আত্মহত্যা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৬:৪৭ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
নিহত মনিরুল ইসলাম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শ্বশুরবাড়িতে আত্মহননকারী মনিরুল ইসলামের (৩০) সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়েছে গত ৩১ জানুয়ারি। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ হওয়ায় হতাশায় মনিরুল গতকাল মঙ্গলবার আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ইউডি মামলা করেছে।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সামাদ মিয়া বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ হওয়ায় হতাশায় মনিরুল ইসলাম আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে এটি আত্মহত্যা না অন্য কিছু।

গত মঙ্গলবার সকালে মনিরুল ইসলাম মির্জাপুর উপজেলা সদরের বংশাই রোডে অবস্থিত শ্বশুর কয়েদ আলীর বাসার তৃতীয় তলার একটি কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার স্ত্রী আইভি আক্তার টাঙ্গাইলের করটিয়া সরকারি সাদাত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক।

নিহত মনিরুল ইসলাম যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের আনোয়ার গাজীর ছেলে। মনিরুল-আইভি দম্পতির মুসা নামে পাঁচ বছরের এক ছেলে ও আরিশা নামে পাঁচ মাসের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আইভি আক্তার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছাত্রজীবনে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পারিবারিকভাবে ৯ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। ৩২তম বিসিএসে স্ত্রী আইভি আক্তারের শিক্ষা ক্যাডারে চাকরি হয়। পরে তিনি করটিয়া সরকারি সাদাত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে যোগদান করেন। তিনি সেখানেই বসবাস করতেন। আর স্বামী মনিরুল চাকরির জন্য ঢাকায় অবস্থান করতেন। আইভি আক্তার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে মির্জাপুর উপজেলা সদরের বংশাই রোডে অবস্থিত বাবা কয়েদ আলীর বাসায় সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। গত শুক্রবার স্বামী মনিরুল সরকারি একটি ব্যাংকে লিখিত পরীক্ষা শেষে শনিবার মির্জাপুরে স্ত্রীর কাছে আসেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি সেখানেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

মনিরুল ইসলামের শ্যালক হাসান বলেন, সরকারি চাকরির বয়স শেষ হওয়ায় তিনি (মনিরুল ইসলাম) খুব হতাশায় ভুগছিলেন। সরকারি চাকরির বয়স ৩৫ করার যে আন্দোলন চলছে সেই আন্দোলন নিয়ে ফেসবুকে তিনিও সক্রিয় ছিলেন। গত ৩১ জানুয়ারি সরকারি চাকরির বয়স ৩০ শেষ হওয়ার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েছিলেন।

এসএম এরশাদ/আরএআর/এমকেএইচ