পুলিশের হাতে ধরা পড়ে পরিচয় দিল যুবলীগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৫:৪০ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে গ্রেফতার দুই মাদকসেবীকে ছিনিয়ে নিয়েছে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জয়াখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

যুবলীগ নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হয়েছেন শ্যামনগর থানা পুলিশের এএসআই আব্দুল হাইসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে সোমবার সকালে থানায় মামলা হয়েছে।

শ্যামনগর থানা পুলিশের এসআই রাজ কিশোর পাল বলেন, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে জয়াখালি গ্রামে যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়। যাত্রাপালার অনুষ্ঠান চলাকালে রোববার রাত ১১টার দিকে গাঁজা সেবন করেছিল তারানীপুর গ্রামের সোহাগ ও আব্দুল্লাহ নামের দুই যুবক।

এ সময় পুলিশের এএসআই আব্দুল হাই, এএসআই মিজান ও কনস্টেবল শাহজালাল দুই গাঁজা সেবনকারীকে গ্রেফতার করে। পরে তারা যুবলীগ পরিচয় দেয়। কিছুক্ষণ পর যুবলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপসহ দুই গাঁজা সেবনকারীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের হাতে দুই যুবক গ্রেফতারের পর রমজাননগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হায়াত আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

এ সময় গ্রেফতার দুই মাদকসেবীকে যুবলীগের পরিচয় দিয়ে ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশকে চাপ দেন হায়াত আলী। তাদের ছাড়তে রাজি না হওয়ায় সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

যুবলীগ নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা জানান, শুনেছি যুবলীগের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় রমজাননগর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশের ওসি হাবিল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি বাধা দেয়ায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে জয়াখালি গ্রামের নুর আলীর ছেলে হাসান আলী গাজীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, হামলাকারীরা কোন দলের কর্মী বা সমর্থন সেটি দেখার বিষয় নয়। এখানে তারা অপরাধী। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

আকরামুল ইসলাম/এএম/পিআর