তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে


প্রকাশিত: ০৭:০৫ এএম, ৩১ আগস্ট ২০১৫

উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে সোমবার ছয়টা সকাল থেকে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল নয়টায় দুই সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হলেও রাতে পানি আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাত তিনটায় তিস্তা পাড়ের অধিকাংশ বাড়ি কোমর পানিতে তলিয়ে গেলে এলাকার কয়েক শত পরিবার তিস্তার বামতীর বাঁধে আশ্রয় নেয়।

সোমবার সকাল ছয়টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তার ভয়াবহ পরিস্থিতির বন্যায় তিস্তা অববাহিকার সহস্রাধিক মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। তিস্তার চর ও নিচু এলাকার ঘরবাড়ির উপর দিয়ে বানের পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, উজানের প্রচণ্ড ঢলের কারণে তিস্তা ব্যারাজের ২০ কিলোমিটার উজানে তিস্তা নদী দুটি চ্যানেলে রূপান্তর হয়েছে। মূল চ্যানেল কালিগঞ্জ জিরো পয়েন্ট ছাড়াও টেপাখড়িবাড়ির চরখড়িবাড়ি দিয়ে তিস্তা নতুন চ্যানেলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। তিস্তার অববাহিকার ২৫টি গ্রামের ৫ সহস্রাধিক পরিবারে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

পাশাপাশি নদী বাম ও ডান তীরের বাঁধ ঘেষে প্রবাহ হওয়ায় বাঁধের হার্ডপয়েন্ট ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিস্তা ভয়ঙ্কর ঢলের কারণে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার কয়েকটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষের ঘরবাড়ি বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। রাতে এসব এলাকার পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

তিস্তার বানের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হলো নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা, লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ উপজেলা। এসব উপজেলার বাইশপুকুরচর, কিসামত ছাতনাই, ঝাড়শিংঙ্গেরশ্বর, বাঘেরচর, টাবুর চর, ভেণ্ডাবাড়ি, ছাতুনামা, হলদিবাড়ী, একতারচর, ভাষানীর চর, পুর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশাচাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী, কৈমারী ও লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা ও কালিগঞ্জ উপজেলার তিস্তা অববাহিকার গ্রামগুলোর কাচা ঘরবাড়ি বন্যার পানির পানি প্রবেশ করেছে।  



টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের সিডিএমপির বাঁধে বন্যার পানি প্রবল বেগে আঘাত করায় রাত জেগে এলাকাবাসী বালুর বস্তা ও বাশের পাইলিং দিয়ে রক্ষা করে। খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলী জানান, তাদের গ্রামের প্রতিটি পরিবারের ঘরে হাঁটু পানির নিচে রয়েছে। ঘরের ভেতর দিয়ে সমান স্রোত বয়ে যাচ্ছে। পশ্চিম বাইশপুকুর থেকে পূর্ব বাইশপুকুরের ৪কিলোমিটার বালুর বাঁধটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে পূর্ব বাইশপুকুর, পশ্চিম বাইশপুকুর, সতিঘাট, ছাতুনামা, ভণ্ডোবাড়ীসহ ১০টি গ্রামের কয়েক শত বাড়িসহ সহস্রাধিক বিঘা আবাদী জমি নদীগর্ভে বিলীন হবে।

পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জাগো নিউজকে বলেন, তার এলাকার পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। রাতে নদীর ভেতরের লোকজন তিস্তার বাঁধে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন জাগো নিউজকে জানান, কিছামত ছাতনাই চরের ২শ পরিবারকে বসতভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ রাতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছিল।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জাগো নিউজকে বলেন, চরখড়িবাড়ী, উত্তর খড়িবাড়ী ও দক্ষিণ খড়িবাড়ী গ্রামের ছয়শতাধিক পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রাতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো তিস্তার বাঁধে আশ্রয় নিয়েছিল। তার ইউনিয়নের সিডিএমপির বাঁধটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিবিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, উজানে ঢলে তিস্তা পানি সোমবার সকাল ছয়টায় বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেট খুলে রাখা হয়েছে। সকাল নয়টায় দুই সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম সকালে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, রাতে তিস্তার পানি যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল তা সকাল থেকে আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে।

জাহেদুল ইসলাম/এমজেড/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।