পাহাড়ে মুখোশধারী এরা কারা!
কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ে সশস্ত্র একটি বাহিনী অবস্থান করার খবর পাওয়া গেছে। তবে এরা কারা কেউ নিশ্চিত হতে পারেনি। আর এ ঘটনায় ওই এলাকায় গত দুই দিন ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে লোকজনকে সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, ভারি অস্ত্রধারী ২০/২৫ জনের একটি দল কিছু দিন ধরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খানজর পাড়ার বরছড়ার তইংঙ্গা নামক পাহাড়ে অবস্থান করছে। এরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো একটি সংগঠনের সদস্য হতে পারে। এ খবর প্রচারের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য সৈয়দ হোসেন জানান, কানজরপাড়া পশ্চিমের পাহাড়ে কয়েক দিন ধরে ২০/২৫ জন অস্ত্রধারী লোক দেখা গেছে বলে স্থানীয় কয়েকজন চাষি মাধ্যমে জানতে পারি। বিষয়টি জানার পর এলাকার মসজিদের মাইকে প্রচার করে ওই এলাকায় পাহারাও বসানো হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। পাশাপাশি বিষয়টি প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে।
চাষিদের বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, মুখোশধারীরা ওই এলাকার লোকজনের কাছ থেকে ডাল ও চাল সংগ্রহ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, পাহাড়ে অবস্থানকারীদের চেহারা ও শারীরিক গঠন উপ-জাতিদের মতো। ধারণা করা হচ্ছে, বান্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েদিন ধরে সেনা ও বিজিবির যৌথ অভিযানের কারণে মুখোশধারী সশস্ত্র বাহিনীরা এখানে এসে অবস্থান নিয়েছেন।
একই এলাকার কবির আহমদ জানান, ভারি অস্ত্রধারী এই দলটি মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের কোন সংগঠনের সদস্য হতে পারে। গত ২৭ আগস্ট বান্দরবানের মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ায় এরা এ পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, অস্ত্রধারীদের অবস্থানের খবর পেয়ে রোববার উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার লোকজনকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান খন্দাকার জানান, বিষয়টি জানার পর পুলিশ পাহাড়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এটি অতীব গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, পাহাড়ে মুখোশধারী সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল অবস্থানের খবর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আইন-শৃঙ্খলার সভায় অবহিত করেছেন। এরপর থেকে মুখোশধারীদের ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/আরআইপি