নগরবাড়ীতে বৃদ্ধার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, দুই গ্রুপে উত্তেজনা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৫:০৭ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

পাবনার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ী এলাকার বসন্তপুর গ্রামে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজিয়া খাতুন লিলি (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মৃতদেহ তার নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের সামাদ শেখের স্ত্রী। গ্রামের বিবদমান দু’ গ্রুপ একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড আখ্যায়িত করে পরস্পরকে দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের আগে হত্যা না আত্মহত্যা-তা নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সংঘর্ষের ঘটনায় ২টি দোকান এবং ৮টি বাড়ি ভাংচুর করার ঘটনা ঘটেছে। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Pabna-2

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নগরবাড়ী এলাকার বসন্তপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) প্রভাব বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রভাবশালী দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। এদের একপক্ষে রয়েছেন উপজেলার জাতসাখিনী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য কাওসার আহমেদ ওরফে পলাশ। অপরপক্ষে রয়েছেন রুস্তম আলী। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

সংঘর্ষের জের ধরে ২টি দোকান এবং ৮টি বাড়ি ভাংচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই সংঘর্ষে ইউপি সদস্য কাওসার আহমেদ ওরফে পলাশের পক্ষের লোক হিসেবে নিহত বৃদ্ধার ছেলে সাইদুল অংশ নেন। সংঘর্ষের পর প্রতিপক্ষ ও পুলিশি অভিযানের ভয়ে তিনি বাড়ি থেকে আত্মগোপন করে। সারারাত তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এরই মধ্যে সকালে তার মায়ের ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। এতে তার পলাশের পক্ষের লোকজন বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। তারা অভিযোগ করেন, প্রতিহিংসাবশত রুস্তম আলী গ্রুপের লোকজন বৃদ্ধার ছেলে সাইদুলকে না পেয়ে তার বৃদ্ধা মাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে। ইউপি সদস্য কাওসার আহমেদ ওরফে পলাশ গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষকে দায়ী করে সকাল ১০টার দিকে নগরবাড়ী ঘাটে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

Pabna-3

এর কিছুক্ষণ পর বৃৃদ্ধার ছেলে সাইদুলকে নিজেদের গ্রুপের বলে দাবি করে রুস্তম আলী গ্রুপের লোকজন। তারা একে ইউপি সদস্য পলাশ গ্রুপের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইউপি সদস্য কাওসার আহমেদ ওরফে পলাশ জানান, ২-৩ দিন আগে রুস্তম গ্রুপের লোকজন ওই বৃদ্ধা মহিলাসহ কয়েকজনের বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়েছিল। এ নিয়ে আমিনপুর থানায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছিল।

তিনি জানান, পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।

নিহত রাজিয়া খাতুন লিলির পুত্রবধু আম্বিয়া খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে রুস্তম গ্রুপের সশস্ত্র হামলায় ২টি দোকানসহ ৮টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এ ঘটনার সময় তারা বাড়ি ঘর ছেড়ে নিরাপদে গিয়ে রাত্রিযাপন করে। এ সময় ঘরে তার বৃদ্ধ শাশুড়ি বাড়িতে একাই পাহারায় ছিলেন।

Pabna-4

তাদের ধারণা, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রুস্তম গ্রুপের লোকেরা রেজিয়া খাতুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে গেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে রুস্তম গ্রুপের লোকজন।

আমিনপুর থানার ওসি (তদন্ত) এস এম মঈন উদ্দিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে হত্যা না আত্মহত্যা। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।’

একে জামান/এসআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :