রানার লোক কালু বলেছে মেরে লাশ গুম করে দেবে

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: ০৭:৪২ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সবার ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতসহ ১১ দফা দাবিতে অনশনে বসেছেন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক শ্রমিককে ৪৮ লাখ টাকা প্রদান, পুনর্বাসন, আজীবন চিকিৎসাসেবা, ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষণা, হতাহত ও নিখোঁজ শ্রমিক পরিবারের শিশুদের লেখাপড়া নিশ্চিত, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ১১ দফা দাবিতে এ অনশন করেন সাভারের বহুতল ভবন ধসে আহত শ্রমিক-কর্মচারীরা।

সোমবার দুপুর থেকে রানা প্লাজা সার্ভাইভারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এছাড়া ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভবন ধসের স্থানে আহত, নিহত ও নিখোঁজদের স্মরণে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোমবাতি প্রজ্বলন এবং দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

রানা প্লাজা সার্ভাইভারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মাহমুদুল হাসান হৃদয় বলেন, ১১ দফা দাবি আদায়ের জন্য আমরা অনশন শুরু করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নেয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এখান থেকে সরব না, অনশন চালিয়ে যাব।

rana

রানা প্লাজায় আমি জীবনের সবকিছু হারিয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবন ধসের ঘটনায় আমি পঙ্গু হওয়ায় হাঁটতে পারছি না। অনেক ওষুধ খেতে খেতে এখন ওষুধ দেখলে ভয় লাগে। প্রস্রাবে ইনফেকশনসহ বুকে এবং পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা। অর্থের অভাবে দু’বেলা দু’মুঠো পেট ভরে খেতে পারি না। রানা প্লাজার শ্রমিক হওয়ায় আমাদের কেউ কাজ দেয় না।

দাবি আদায়ে রানা প্লাজার সামনে এলে আমাদের দাঁড়াতে দেয় না। রানার লোকজন এসে আমাদের হুমকি দিয়ে গেছে। কালু নামে একজন নিজেকে রানার লোক পরিচয় দিয়ে আমাদের উঠে যেতে বলেন। সেই সঙ্গে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেন কালু।

ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার আমাদের কোনো অনুদান দেইনি। বিভিন্ন সংস্থা সহায়তার নামে আমাদের নিয়ে ব্যবসা করেছে। নামমাত্র যা অনুদান পেয়েছি তা চিকিৎসায় খরচ হয়েছে।

ব্যানারে উল্লেখিত দাবিগুলো হচ্ছে- রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেককে ৪৮ লাখ টাকা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, আজীবন চিকিৎসাসেবা, ঘটনার দিনটিকে শোক দিবস ঘোষণা, হতাহত ও নিখোঁজ পরিবারের শিশুদের লেখাপড়া নিশ্চিত, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি, আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, আহত উদ্ধারকর্মীদের চিকিৎসা, স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, হতাহত পরিবারের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

আল-মামুন/এএম/এমএস