স্কুলছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ, মামলা তুলে নিতে হত্যার হুমকি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ১০:৫৩ এএম, ০১ মে ২০১৯
অভিযুক্ত পারভেজ ,সজিব ও সাকিব

মাদারীপুরের শিবচরে এক স্কুলছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা তুলে না নিলে ওই ছাত্রীকে অ্যাসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দিবে বলে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রীর মা।

গত ১ এপ্রিল স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিন বন্ধু জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে দলবেধেঁ ধর্ষণ করে। পরে সেই ধর্ষণের ভিডিও তারা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় গত ৬ এপ্রিল ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মাদারীপুর আদালতে মামলা করেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দত্তপাড়ার স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার ছলেমান শিকদারের ছেলে পারভেজ শিকদারের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত ১ এপ্রিল স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্রীকে তিন বন্ধু জোরপূর্বক ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যায়। উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের মগড়া পুকুর পাড় এলাকার রতন বিশ্বাসের বাড়িতে আটকে রেখে ওই ছাত্রীকে পারভেজ ও তার দুই সহযোগী ধর্ষণ করে। আসামিরা ঘটনার সময় ধর্ষণের চিত্র মোবাইলে ধারণ করে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ভিডিও প্রকাশ করে তারা।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা গত ৬ এপ্রিল মাদারীপুর আদালতে মামলা দায়ের করলে পারভেজ ও তার সহযোগিরা গাঁ ঢাকা দেয়। পরে ১৬ এপ্রিল পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিং করে ধর্ষণের মূলহোতা পারভেজকে গ্রেফতার করে।

পারভেজের দুই সহযোগী হচ্ছে- ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের নিকা মুন্সীর ছেলে সজিব মুন্সী এবং শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া মগড়া গ্রামের দাদন শেখের ছেলে সাকিব শেখ। এখন পর্যন্ত পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

ওই ছাত্রীর মা বলেন, পারভেজকে গ্রেফতার করার পর থেকেই মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে ধর্ষকরা। মামলা তুলে না নিলে মেয়েকে অ্যাসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে। ধর্ষকদের ভয়ে মেয়েটি বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। তার লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

শিবচর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন মোল্লা জানান, এ ঘটনায় পারভেজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এ কে এম নাসিরুল হক/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :