বাবা যে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী সেখান থেকেই জিপিএ-৫ পেয়েছে মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:১৭ পিএম, ১০ মে ২০১৯

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার টেমার মালেকা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর চাকরি করেন মো. ছালাম মিয়া। এবার সেই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মেয়ে ফারজানা। কিন্তু অন্য সবার মতো আনন্দ নেই বাবা-মেয়ের মনে। দুজনের মনেই শঙ্কা কাছ করছে আগামীর লেখাপড়া নিয়ে।

ছোটবেলা থেকেই বাবার অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠেছে ফারজানা আক্তার (১৫)। তারপরও বাবার সামান্য আয়ের সংসারেও থেমে থাকেনি সে। পরিচয় দিয়েছে মেধার। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের টেমার এলাকায় বাড়ি তার।

ফারজানা জানায়, আভাব-অনটনের কারণে দৈনিক ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা প্রাথমিকের শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়েছি। এরপর নিজের পড়াশোনা করেছি। প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করেছি। এছাড়া যখনই সুযোগ পেয়েছি মাকে সাংসারিক কাজে সহযোগিতা করেছি। সবাই ভালোবাসতো। মা-বাবা ছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরা আমাকে খুব অনুপ্রেরণা দেন, সহযোগিতা করেন।

ফারজানার স্বপ্ন শিক্ষক হবে। শিক্ষক হয়ে ছোট-ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে শিক্ষিত জাতি গঠন করবে।

ফারজানার বাবা মো. ছালাম মিয়া জানান, সামান্য বেতনে বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর চাকরি করে দুই সন্তান, স্ত্রী ও মাসহ ৫ জনের সংসার চালাতে হয়। এরপর ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালানো খুবই কষ্টকর।

তিনি বলেন, ফারজানার এ সাফল্যে খুশি হয়েও বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। কীভাবে একটি ভালো কলেজে ভর্তি করে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাবো বুঝতে পারছি না।

ফারজানার মা লিপি বেগম জাগো নিউজকে বলেন, অভাব-অনটনের টানাটানির সংসারে মেয়েকে পরীক্ষার সময় ভালো একটি জামাও কিনে দিতে পারিনি। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা যেমন সব বিষয়ে প্রাইভেট পড়ে, তেমন সুযোগ হয়নি ফারজানার। সেই সক্ষমতাও ছিল না আমার পরিবারের। পড়াশোনার জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করেছে ফারজানা।

সাইফ আমীন/এমএএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]