ব্যাগভর্তি টাকা পেয়ে ফিরিয়ে দিলেন মেকানিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:৪১ পিএম, ১২ মে ২০১৯

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ব্যাগভর্তি টাকা রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়ে মালিককে ফিরিয়ে দিলেন মোটরসাইকেল মেকানিক আল আমীন বেপারী (২৫)। ব্যাগের মধ্যে নগদ ৭৩ হাজার টাকা, চেক বই ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল।

রোববার দুপুরে টাকার ব্যাগটি প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হারানো টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফেরত পেয়ে ব্যাগের মালিক উপজেলার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা মো. রাকিব হোসেন মোটরসাইকেল মেকানিক আল আমীনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আল আমীন বেপারী উপজেলার চরগাধাতলী গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিন বেপারীর ছেলে। পেশায় তিনি মোটরসাইকেল মেকানিক। আল আমীন বেপারীর গৌরনদী বন্দরে মোটর সাইকেলের একটি গ্যারেজ আছে।

ব্যাগের মালিক মো. রাকিব হোসেন জানান, তিনি ফিল্ড ভিজিট শেষে সকালে মোটরসাইকেলে আল আমীন বেপারীর গ্যারেজের সামনের রাস্তা দিয়ে অফিসে যাচ্ছিলেন। তার কাছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কয়েকটি রেজিস্ট্রার বই, বিভিন্ন কাগজপত্র ও টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিল। ব্যাগের মধ্যে নগদ ৭৩ হাজার টাকা, চেক বই ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন কাগজপত্র ছিল।

মো. রাকিব হোসেন বলেন, অনেক কাগজপত্রের মধ্য থেকে টাকা ভর্তি ব্যাগটি পড়ে যায়। পরে যখন ব্যাগের কথা মনে হয় তখন দেখি সঙ্গে ব্যাগটি নেই। ফেরত পাওয়ার আশা না থাকলেও ব্যাগটি খুঁজতে থাকি। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে নম্বর পেয়ে আমার মুঠোফোনে কল দিয়ে ব্যাগটি ফেরত দেয় মোটরসাইকেল মেকানিক আল আমীন। তার কথা আমার চিরদিন মনে থাকবে। রাস্তায় এত টাকা কুড়িয়ে পেয়েও আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আল আমীন।

আল আমীন বেপারী বলেন, টাকাটা আমি হাতে না নিলে হয়তো অন্য কেউ নিয়ে যেত। এই ভেবে টাকাটা কুড়িয়ে নিয়েছিলাম। প্রকৃত মালিককে টাকাটা ফেরত দিতে পেরে বেশ আনন্দ লাগছে। নগদ টাকা ছাড়া ব্যাগটির মধ্যে একটি চেক বই ছিল। সেখানে কয়েকটি পাতায় টাকার অঙ্ক উল্লেখ না থাকলেও স্বাক্ষর ছিল। কোনো খারাপ লোকের হাতে ব্যাগটি পড়লে ওই চেক দিয়ে মালিককে বেকায়দায় ফেলতে পারতো। তবে যার ব্যাগ তার কাছে ফেরত দিতে পেরেছি এতেই মনে অনেক শান্তি পেয়েছি।

গৌরনদী থানা পুলিশের এসআই মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। সৎ লোক আছে বলেই সমাজটা টিকে রয়েছে। এ ধরনের মানুষের সংখ্য যত বাড়বে, সমাজ থেকে অপরাধের মাত্রা ততই কমবে।

সাইফ আমীন/এএম/জেআইএম