সাতক্ষীরার মানবতাবিরোধী অপরাধী টিক্কা খানের মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৭:৫০ পিএম, ১৩ মে ২০১৯

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি জহিরুল ইসলাম টিক্কা খান (৬৮) মারা গেছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পলাতক থাকা অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। সোমবার ভোর রাতে গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ আনা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে তার বিরুদ্ধে বিচার চলমান ছিল। জাহিরুল ইসলাম টিক্কা খান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী বৈকারী গ্রামের মৃত. আইজুদ্দিন মোল্যার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারতে আত্নগোপনে ছিলেন। তবে কোথায় ছিলেন তার কোনো সঠিক তথ্য জানা যায়নি। এছাড়া তার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জাহিরুল ইসলাম ওরফে টিক্কা খান দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। সোমবার ভোররাতে তার মরদেহটি বাড়িতে আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাতক্ষীরার চার যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা হয়। মামলার আসামিরা হলেন- সদরের আলীপুর এলাকার আব্দুল্লাহেল বাকী, জামায়াতের সাবেক এমপি বৈকারী গ্রামের আব্দুল খালেক মন্ডল, শহরের পলাশপোল নবজীবন এনজিওর সাবেক নির্বাহী পরিচালক খান রোকনুজ্জামান ও বৈকারীর জহিরুল ইসলাম ওরফে টিক্কা খান। চলমান মামলায় গত ৬ মে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রোকন ও টিক্কা খান শুরু থেকেই পলাতক।

আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু হয়, যা শেষ হয় ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ছয় জনকে হত্যা, দুই জনকে ধর্ষণ ও ১৪ জনকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

আকরামুল ইসলাম/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।