মার দিতে গিয়ে মার খেলেন আওয়ামী লীগ নেতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৬:৩০ পিএম, ২১ মে ২০১৯

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের কীর্তিনগর গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আটজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত পাঁচজনকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ও তিনজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মেল্যা ও ওই ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি রিপন সরদারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সংঘর্ষে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক মোল্যা ও তার ছেলে সাগর মোল্যা, আরেক ছেলে শাওন মোল্যা, সমর্থক ইছহাক মাতবর ও জামাল হাওলাদার আহত হয়েছেন। পাশাপাশি রিপন সরদারের মা ফিরোজা বেগম, তার চাচাতো ভাই তোতা সরদার ও সমর্থক শহীদ মল্লিক আহত হয়েছেন। আহত সাগর মোল্যার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পালং মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক মেল্ল্যার ছেলে সাগর মোল্যা কীর্তিনগর সেতুর কাছে যায়। সেখানে রিপন সরদারের সমর্থক তোতা সরদারের সঙ্গে সাগরের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রিপনের সমর্থকরা তাকে চড় মারেন। এ সংবাদ ওমর ফারুকের কাছে গেলে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে ওই স্থানে যান। তখন রিপনের সমর্থকরা সংঘবদ্ধ হয়ে আসে। দুপুর দেড়টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে যায়। খবর পেয়ে পলং মডেল থানার পুলিশ ও সন্তোষপুর ফাঁড়ি থেকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।

চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের পুত্রবধূ শারমিন আক্তার বলেন, রিপন সরদার এলাকায় নির্বাচন করতে চায়। এ কারণে আমার শ্বশুর, স্বামী ও দেবরের ওপর ক্ষিপ্ত। পরিকল্পিতভাবে বিনা কারণে আমার স্বামীকে মারধর করেছে রিপন। বিষয়টি জানতে পেরে আমার শ্বশুর ওই স্থানে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমার স্বামী, শ্বশুর ও দেবরকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপানো হয়েছে।

এ বিষয়ে রিপন সরদার বলেন, আমি দীর্ঘদিন এলাকায় ছিলাম না। এখন এলাকায় এসেছি। কমবেশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও তার ছেলেরা শুধু শুধু আমার সঙ্গে বিরোধ করছেন। তারা আমার মাকে আঘাত করেছেন। তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমি ওই স্থানে উপস্থিত হয়ে দুই পক্ষের ঝগড়া সমাধান দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু চেয়ারম্যানের দুই ছেলে বেশি উগ্র ছিল। তারাই আমার সমর্থকদের কোপায়। খবর পেয়ে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক আমাদের মারতে আসেন। তখন তিনি আহত হয়েছেন।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আসলাম উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ যাওয়ার পর সংঘর্ষে থেমেছে। দুই পক্ষের আটজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। সংঘর্ষে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মো. ছগির হোসেন/এএম/পিআর