মানুষ নেই, টিকিট কিনতে লাইন চেয়ার-টুল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ০৯:২০ এএম, ০২ জুন ২০১৯

জয়পুরহাট রেলস্টেশনে ট্রেনের ফিরতি টিকিট নিতে প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই চেয়ার বা টুল দিয়ে লাইন দেয়া হচ্ছে। রাত গভীর হলেই এই লাইন বাড়তে থাকে। লাইনে যারা চেয়ার বা টুল রাখছেন তারাই সকালে এসে ওই স্থানে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন টিকিট কাটতে আসা অপর যাত্রীরা।

জয়পুরহাট থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে আসন সংখ্যা কম থাকায় ও ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ট্রেন সেবা না দেয়ায় ট্রেনের ফিরতি টিকিট পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীদের। এছাড়াও বরাদ্দকৃত টিকিট সুকৌশলে কালোবাজারিচক্রের হাতে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ভুক্তভোগী।

জয়পুরহাট রেলওয়ে স্টেশনে গত ২৭ মে থেকে ধারাবাহিকভাবে ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে যা চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। জয়পুরহাট থেকে দ্রুতযান এক্সপ্রেস সকালে, নীলসাগর ও একতা এক্সপ্রেস রাতে ছেড়ে যায়। এসব ট্রেনের মধ্যে দ্রুতযান এক্সপ্রেসে আসন সংখ্যা শোভন চেয়ার ৩০টি, এসি চেয়ার ৪টি; নীলসাগর এক্সপ্রেসে শোভন চেয়ার ৫০টি, এসি চেয়ার ৫টি, বাথ ২টি। একতা এক্সপ্রেসে শোভন চেয়ার ৪০টি, এসি চেয়ার ৩টি। এসব টিকিটের অর্ধেক দেয়া হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে। বাকি অর্ধেকের জন্য স্টেশনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হলেও আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই কোনো ব্যক্তিকে লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় না দেখা গেলেও চেয়ার বা টুল লাইনে দিয়ে জায়গা দখল করছে, তারপর সকাল হলেই চেয়ার বা টুল দিয়ে রাখা ব্যক্তিরা নির্ধারিত স্থানে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন।

স্টেশন এলাকা সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, লাইনে চেয়ার বা টুল দিয়ে রাখা ব্যক্তিরা টিকিট কিনতে আসা ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করা লোকজন ও সংঘবদ্ধ কালোবাজারি। ফলে টিকিট চলে যাচ্ছে কালোবাজারিচক্রের হাতে। পরে সুযোগ বুঝে তারা শোভন চেয়ারের ৩৯০ টাকার টিকিট বিক্রি করছে দেড় হাজার টাকায়। আর এসি চেয়ারের ৭৪২ টাকার টিকিট বিক্রি করছে তিন হাজার টাকায়।

কালোবাজারিচক্রের ব্যাপারে কেউ কথা বলতে রাজি না হলেও লাইনে চেয়ার দিয়ে রাখা পশ্চিম দেবীপুরের ইসমাঈল হোসেন বলেন, আমার এক আত্মীয়ের জন্য একতা ট্রেনের এসি টিকিটের জন্য সন্ধ্যা থেকে টুল দিয়ে রেখেছি, সবসময় তো আর বসে থাকা যায় না, এ জন্য টুল রেখে এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করছি।

স্টেশন চত্বরের পান দোকানদার এনামুল হক বলেন, দ্রুতযান ট্রেনে দুটি এসি টিকিটের জন্য একটি অফিসের কর্মকর্তা লাইনে চেয়ার দিয়ে রাখতে বলেছেন, পান বিক্রি করার পাশাপাশি মাঝে মাঝে চেয়ারটি দেখে আসছি।

সদরের পুরানাপৈল এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেন, বঙ্গবন্ধু রোডের রাতুল ও নাজিব, মাদরাসাপাড়ার নাছিম বলেন, শোভন চেয়ারের টিকিট কিনতে এসেছি, লোকজন কেউই নেই শুধু লাইনে চেয়ার রাখা হয়েছে, সারারাত জাগার পর সকালে টিকিট পাব কি-না এ নিয়ে চিন্তাই আছি।

জয়পুরহাট স্টেশন মাস্টার হাবিবুর রহমান বলেন, কালোবাজারিদের মাধ্যেমে টিকিট বিক্রি হচ্ছে বলে আমার জানা নেই। তবে আমার স্টেশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এতে জড়িত নয়। জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, লাইনে চেয়ার দিয়ে রাখার বিষয়টি আমি জানি না, তবে রাখলে অবশ্যই তা বন্ধ করা হবে।

রাশেদুজ্জামান/বিএ/এমএস