মাদারীপুরে প্রতিপক্ষের ভয়ে পুরুষ শূন্য পরিবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ১৪ জুন ২০১৯

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল গ্রামে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে ওই গ্রামের একটি বাড়ি পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।

প্রভাবশালী মহলের চাপে মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন তারা। এ ঘটনায় দুই পক্ষই মামলা করেছে। পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। দুটি মামলায় গ্রেফতার এড়াতে দুইপক্ষের লোকজনই গ্রাম ছাড়া।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, খাতিয়াল গ্রামে গত ৯ জুন বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় সাহাবুদ্দিন মোল্লার ঘরবাড়িসহ আশপাশের ১২টি ঘরবাড়ি কুপিয়ে ও লুট করে একই গ্রামের কতিপয় দুষ্কৃতকারী। ঘটনার দিন অতর্কিত হামলা চালিয়ে সাহাবুদ্দিন মোল্লা, খলিল মোল্লা, মোশারফ মোল্লা, গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, সাহেব আলী চৌধুরী ও কালু মোল্লার ঘরসহ ১২টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে একই এলাকার প্রভাবশালী শাহ আলম মাতুব্বর, বিল্লাল জমাদ্দার, আনোয়ার জমাদ্দার, মোকসেদ সরদার ও ছিরুল মল্লিকের লোকজন।

এ ঘটনায় আহত হন বিলকিস বেগম (৩০), আমিরুন বেগম (৫০), মামুন মোল্লা, দেলোয়ার ফকিরসহ (৫০) অনেকে। পরে তাদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে গেলে বালিগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন হাওলাদার বাধা দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী বিককিস বেগম বলেন, ‘আমরা কী দোষ করছি? আমাদের ঘরবাড়ি কী দোষ করছে? নারীদের গায়ে হাত দেয়াও বাদ দেয়নি।’

মোশারফ বলনে, ‘আমি ভ্যান চালিয়ে খাই। হঠাৎ করে অনেকগুলো লোক এসে আমার ঘরসহ অন্য ঘরগুলো কোপাতে থাকে। আমি ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলে দরজা খুলতে না পেরে ঘরের বাহিরে কুপিয়ে অন্যদিকে চলে যায়। আমি এর বিচার চাই।’

বৃদ্ধ আবু হাওলাদার বলেন, ‘আমি নিজের চোখে দেখছি আমার ছেলেকে কীভাবে মারধর করছে। আমি ভিক্ষা করে পাঁচদুয়ারে চাইয়া খাই, আমার ঘর- দুয়ার কুপাইয়া শেষ কইরা ফেলছে। আমার ছেলেটা কামলা দিয়ে খায়, সেটাও বন্ধ করছে। আমি এর বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে গিয়াস উদ্দিন হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ঘটনা শুনেছি। আমি এর সঙ্গে জড়িত না। আমি এখন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছি।’

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বদরুল মোল্লা বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরুষ বা নারীদের যদি কেউ হুমকি দিয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নাসিরুল হক/এনডিএস/এমকেএইচ