গৃহবধূকে হত্যা, ওসিকে মামলা নিতে আদালতের নির্দেশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ০৬:৩৮ পিএম, ১৮ জুন ২০১৯

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় নির্যাতনের পর গৃহবধূ নুসরাত জাহান ইভার মুখে বিষ ঢেলে হত্যার ঘটনায় মামলা নিতে নলছিটি থানা পুলিশের ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. গাজী রহমান এ নির্দেশ দেন। গৃহবধূ নুসরাত জাহান ইভার বাবা গাজী আকতার হোসেন বাদী হয়ে ইভার স্বামী তরিকুল ইসলাম লিংকনকে প্রধান আসামি করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করলে শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন ইভার শ্বশুর আহসান হাবিব, শাশুড়ি জাহানআরা বেগম, ভাসুর মো. সুজন ও তার স্ত্রী হাসি বেগম।

জানা যায়, হাসপাতালে গৃহবধূ ইভার মৃত্যুর পর স্বামী তরিকুল ইসলাম লিংকনসহ তার পরিবারের সদস্যদের আসামি করে নলছিটি থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে মামলা নেননি ওসি।

ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মামলা রেকর্ড করা যাবে না বলে জানিয়ে দেন তিনি। পরে মেয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ইভার বাবা গাজী আক্তার হোসেন। এ সময় যৌতুকের দাবিতে ইভাকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করত বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ইভার স্বামী তরিকুল ইসলাম লিংকনকে প্রধান আসামি করে আরও চারজনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার মামলা করা হয়েছে। শুনানি শেষে নলছিটি থানার ওসিকে তিনদিনের মধ্যে বাদীর এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে বৈচন্ডী গ্রামের হাবিবুর রহমান হাওলাদারের ছেলে তরিকুল ইসলাম লিংকন হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে হয় নুসরাত জাহান ইভার। বিয়ের পর নানা কারণে ইভাকে নির্যাতন করতেন স্বামী। এছাড়া ইভার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিলেন লিংকন। তাদের নির্যাতন সইতে না পেরে ৩০ মে ইভা অজ্ঞান হয়ে যান। পরে স্বামী তরিকুল ইসলাম লিংকনসহ অন্যরা মিলে ইভার মুখে বিষ ঢেলে দেন। ১৫ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা যান ইভা। ইভার মৃত্যুর পর স্বামী লিংকনের পরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।

আতিকুর রহমান/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :