১৭ বছর পর পিতৃপরিচয় নিশ্চিতে ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৪:৪০ পিএম, ৩০ জুন ২০১৯

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ধর্ষণের শিকার বাস্তুহারা এক নারীর গর্ভে জন্ম নেয়া কন্যা সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত হতে ১৭ বছর পর ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিয়িক এসিড) পরীক্ষার আদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। রোববার দুপুরে আদালত এই নির্দেশ দেন।

ধুনট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে ওই নারীর পৈতৃক বসতভিটা বাঙ্গালী নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। এরপর তিনি তার মায়ের সঙ্গে স্থানীয় সোনাহাটা বাজার এলাকায় সরকারি রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করে আসছিলেন। এ অবস্থায় ২০০১ সালে জয়শিং গ্রামের গমির উদ্দিন মন্ডলের বখাটে ছেলে মাহফুজার রহমান ঝুপড়ি ঘরে ঢুকে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে মাহফুজারের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্ত মাহফুজার রহমানের বিরুদ্ধে বগুড়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় ওই নারী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। বর্তমানে ওই মেয়ের বয়স ১৭ বছর।

এদিকে ধর্ষণ মামলায় প্রায় ৬ বছর আগে মাহফুজার রহমানের যাবজ্জীবন সাজা হয়। বর্তমানে মাহফুজার বগুড়া জেলা কারাগারে রয়েছে। এ অবস্থায় মাহফুজার রহমান সন্তানের দায় এড়াতে ওই মেয়ের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করে। বিচারক মাহফুজারের আবেদনের শুনানি নিয়ে ওই নারী ও তার মেয়েকে উচ্চ আদালতে হাজির করার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। সেই মোতাবেক ধুনট থানা পুলিশ রোববার মা-মেয়েকে আদালতে হাজির করে। আদালত তাদের দুজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

ধুনট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিচারকের আদেশে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ওই নারী ও তার মেয়েকে উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

লিমন বাসার/এমবিআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।