‘ওরা আমার মেয়েকে মুখ বেঁধে গণধর্ষণ করেছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০১:১০ এএম, ০৩ জুলাই ২০১৯

শরীয়তপুরের জাজিরার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে (১৬) গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। শরীয়তপুরের আন্তঃজেলা পরিবহনের তিনজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এসেছে। সদর উপজেলার উত্তর মধ্যপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে রোববার রাতে মেয়েটিকে গণধর্ষণ করে।

এলাকাবাসী ওই ছাত্রীকে শরীয়তপুর বনবিভাগের পুকুরঘাট থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়। গণধর্ষণের অভিযোগে বাসের চালক রাকিব মন্ডলকে (২৫) আটক করেছে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পুলিশ। ভুক্তভোগী ছাত্রী মামলার জন্য মঙ্গলবার রাতে পালং মডেল থানায় যায়।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ছাত্রীর বাড়ি ছিল নড়িয়া উপজেলায়। গত বছর নদী ভাঙনে গৃহহীন হয়ে জাজিরার একটি গ্রামে আশ্রয় নেয় পরিবারটি। ওই ছাত্রী রোববার বিকেলে তার এক আত্মীয়র বাড়ি যাওয়ার জন্য শরীয়তপুর জেলা শহরের বাস টার্মিনালে আসেন। তখন সেখানে দেখা হয় পূর্ব পরিচিত পরিবহন শ্রমিক ইসলাম নামে এক যুবকের সঙ্গে।

ইসলাম ওই ছাত্রীকে তার আত্মীয়র বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে তার বন্ধু রাকিব মন্ডল ও সবুজের সাথে অটোরিকশায় তুলে দেয়। রাকিব ও সবুজ মেয়েটিকে নিয়ে মনোহর বাজারে যান। সেখানে কিছু খাওয়া দাওয়ার পর মেয়েটিকে রাকিবের বাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে মেয়েটির মুখ বেঁধে রাকিব ও সবুজ প্রথম দফায় ধর্ষণ করেন।

এরপর সন্ধ্যায় ওই বাড়িতে যায় ইসলাম। রাতে ইসলামও মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। পুনরায় ধর্ষণ করা নিয়ে ইসলামের সঙ্গে রাকিব ও সবুজের কথা কাটাকাটি হয়। তখন ইসলাম মেয়েটিকে তাদের বাড়ির পাশের শরীয়তপুর বনবিভাগের পুকুর ঘাটে নিয়ে যায়। পুকুর ঘাটে নিয়েও মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়।

পরে স্থানীয় এক অটোরিকশা চালক তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেলে ইসলাম মেয়েটিকে বিয়ে করবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে পালায়। পরে ওই অটোরিকশা চালক বিষয়টি পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের জানান। মেয়েটিকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেন। পরিবহন শ্রমিকরা অপরাধীদের বিচার করবেন এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েটির পরিবারকে থানায় যেতে দেননি।

মঙ্গলবার শরীয়তপুর আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার অভিযুক্ত রাকিব মন্ডলকে বাস টার্মিনালে দেখতে পেয়ে আটক করে পুলিশে তুলে দেয়। রাত ৮টার দিকে ওই স্কুল ছাত্রী তার বাবাকে নিয়ে মামলা করার জন্য পালং মডেল থানায় যায়।

ওই ছাত্রী বলেন, ‘মাদারীপুরে এক আত্মীয় বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে আসি। সেখানে দেখা হয় ইসলামের সঙ্গে। সে আমার পূর্ব পরিচিত ছিল। আত্মীয় বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সে তার বন্ধুদের সাথে অটোরিকশায় তুলে দেয়। কিন্তু তারা কৌশল করে আমাকে নির্জন স্থানে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে একটি ঘরে আটকে ধর্ষণ করে। ইসলাম, রাকিব ও সবুজ কয়েক দফায় আমাকে ধর্ষণ করেছে। এখন আমি কীভাবে সমাজে মুখ দেখাব? আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘যারা আমার মেয়েকে মুখবেঁধে নির্যাতন করেছে তাদের শাস্তি হোক। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।’

পালং মডেল থানা হাজতে আটক রাকিব মন্ডল বলেন, ‘আমি ওই মেয়েটির সাথে কিছু করিনি। ইসলাম ও সবুজ তাকে ধর্ষণ করেছে। তারাই ওই মেয়েটিকে আমার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। আমি নির্দোষ। ইসলাম ও সবুজ কোথায় আছে তা আমি জানি না।’

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘তিন পরিবহনের শ্রমিক মিলে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করেছে এমন অভিযোগে এক শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। মেয়েটি মামলা করার জন্য থানায় এসেছে। এখনো মামলা হয়নি। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

মো. ছগির হোসেন, শরীয়তপুর/এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]