পলিথিনের ঘরে থেকেও ভাগ্যে জোটেনি বিধবা ভাতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৯

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় পলিথিনের ঘরে থেকেও অসহায় মমেনা বেওয়ার (৬৫) ভাগ্যে জোটেনি বিধবা ভাতা বা সরকারি ঘর। অনাহারে দিন কাটে তার।

মমেনা বেওয়া উপজেলার নন্দিরকুটি গ্রামের মৃত কপুর উদ্দিনের স্ত্রী। এক ছেলে এবং এক মেয়ে থাকলেও কেউ খোঁজ রাখেননি তার। স্বামীকে হারিয়েছেন ৩০ বছর আগে। মেয়েটিকে অনেক কষ্ট করে বিয়ে দিয়েছেন। মাকে ফেলে ছেলে মমিনুল স্ত্রী সন্তান নিয়ে আলাদাভাবে সংসার করছেন।

বৃদ্ধ মা কি খেলেন কিংবা না খেলেন তা দেখার সময় নেই সন্তানের। এ অবস্থায় কষ্টে দিন কাটছে মায়ের। তার এমন বিপদে এগিয়ে আসেননি জনপ্রতিনিধিরাও। এখন পর্যন্ত তার ভাগ্যে জোটেনি বিধবা ভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা ঘর।

সোমবার মমেনা বেওয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলের ঘরটি তালাবদ্ধ। মমেনা বেওয়া কোনো রকমে পলিথিন দিয়ে তৈরি ছোট একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকেন। নেই ঘরের বেড়া। ঝুপড়ি ঘরের এক দিকে রান্নাবান্না, অন্যদিকে থাকার বিছানা। যেদিন রাতে বৃষ্টি আসে সেদিন বিছানার এক কোণে বসে রাত কাটান তিনি। বৃষ্টির পানিতে সব কিছু ভিজে যায়। বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তিনি।

Kurigram-Momena-(1)

জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মমেনা বেওয়া বলেন, মোর খোঁজখবর নিয়া কী হইবে বাবা। মোর কিছুই নেই। ৩০ বছর আগে স্বামীকে হারাইছোং। মেয়েটা স্বামীর সংসারে ব্যস্ত। একমাত্র ছেলেটাও মোর খোঁজ রাখে না। স্ত্রী সন্তান নিয়ে আলাদা সংসারে থাকে। মুই ২০ বছর ধরি বৃদ্ধা বয়সে মানুষের বাড়িতে দিন মজুরি ও ঝিয়ের কাজ-কামাই করি বাছি আছোং। স্বামী মরিয়া মোর কপালোৎ জোটেনি বিধবা ভাতা বা একটি সরকারি ঘর।

প্রতিবেশী শহিদুল, নুরজাহান বেগম ও এরশাদুল হক জানান, বৃষ্টি-বাদলের দিন খুব কষ্ট হয় এই বিধবা মহিলার। মমেনা বেওয়া অতি দরিদ্র হলেও তার ভাগ্যে জোটেনি বিধবা ভাতা ও একটা সরকারি ঘর।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাছুমা আরেফিন বলেন, নতুন ঘরের বরাদ্দ আসলে মমেনা বেওয়াকে একটি ঘর দেয়া হবে। সেই সঙ্গে ভাতার জন্য আবেদন করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাজমুল/এএম/এমকেএইচ