সাঁওতাল হত্যা মামলার চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি পিটিশন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৫:৪৪ পিএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও তিন সাঁওতাল হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদসহ ১১ আসামিকে বাদ দিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে চার্জশিট দেয়ায় বাদীপক্ষ নারাজি পিটিশন দায়ের করেছে।

বুধবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল (চৌকি) ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্রের আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী শাকিল এই নারাজি পিটিশন দায়ের করেন। আদালত নারাজি পিটিশন আমলে নিয়ে আগামী ৪ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

এতে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য অ্যাডভোকেট জেড আই খাঁন পান্না, অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান সিরাজী, অ্যাডভোকেট মুরাদুজ্জামান রব্বানী ও গাইবান্ধা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বাবু।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জেড আই খাঁন পান্না বলেন, আদিবাসী সাঁওতাল হত্যা মামলায় পিবিআই দীর্ঘ সাত মাস তদন্ত করে যে চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে, সেখানে গোবিন্দগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদসহ ১১ জনের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও পিবিআই মামলার আসামিকে সাক্ষী বানিয়েছে। তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিভাগীয় তদন্ত করেছেন। সে রির্পোটেও বেরিয়ে এসেছে কারা বাড়িঘরে আগুন লাগিয়েছে। আমরা আদালতে এসব তুলে ধরেছি। বিজ্ঞ আদালত আমাদের কথাগুলো শুনেছেন এবং আগামী ৪ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

পরে স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা থেকে আসা আইনজীবী ও সাঁওতাল নেতারা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা পূর্ণতদন্ত পূর্বক চার্জশিটে প্রকৃত আসামিদের অর্ন্তভুক্তসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বাপ-দাদার সম্পত্তি ফেরতের দাবি জানান। একই সঙ্গে সাঁওতালদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়। অবিলম্বে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে কঠোর আন্দোলন সংগ্রামের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর রংপুর সুগার মিলের সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্মের জমি থেকে আদিবাসী সাঁওতাল উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হয়। এ ঘটনায় ওই সময় রামপুর মাহালীপাড়া গ্রামের মৃত সমেশ্বর মুরমু’র ছেলে শ্রী স্বপন মুরমু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। একই ঘটনায় বুজরুবেড়া আরোজী মিশনপাড়া গ্রামের মঙ্গল হেমব্রমের ছেলে থমাস হেমব্রম নামীয় আসামি করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে এজাহারটি গোবিন্দগঞ্জ থানা আমলে নেয়। পরবর্তীতে দুটি এজাহার একত্র করে তদন্ত সাপেক্ষে গাইবান্ধা পিবিআইয়ের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই গত ২৩ জুলাই ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চাজশির্ট দাখিল করেন। এতে গোবিন্দগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদসহ ১১ জন আসামির নাম বাদ দেয়া হয়।

জাহিদ খন্দকার/আরএআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।